বাগেরহাট পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান, দালালের জরিমানা

মোঃ শহিদুল ইসলাম

পাসপোর্ট সেবা প্রদানে নানা অনিয়মের অভিযোগে বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরের ভুক্তভূগীর ফোন পেয়ে সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপরে দুদকের খুলনা সমন্বিত কার্যালয়ের একটি টিম এ অভিযান চালায়। এসময় মকছুদ আলী আকুঞ্জি (৫৮) নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করেণ বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ কামরুল হাসান।

মকছুদ আলী আকুঞ্জি বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকার প্রয়াত হাসান আলী আকুঞ্জির ছেলে।

দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তরুন কান্তি ঘোষের নেতৃত্বে পাসপোর্ট অফিসে অভিযান কালে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পায়। অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন দুদুকের খুলনা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক নীলকমল পাল, সহকারী পরিদর্শক শ্যমল চন্দ্র সেন, উপসহকারী পরিদর্শক আব্দুস সালাম।

অভিযান চলাকালে পাসপোর্ট অফিসের পরিচ্ছন্নকর্মী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আনসার সদস্য মো. মিজানুর রহমান ও আল মামুনের বিরুদ্ধে দালালদের সাথে যোগসাজশে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানীর সত্যতা পায়। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে দুদক।

দুদকের সহকারী পরিচালক তরুন কান্তি ঘোষ বলেন, হটলাইনে এক ভুক্তভুগীর অভিযোগ পেয়ে সোমবার বাগেরহাটের পাসপোর্ট অফিসে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় আমরা পাসপোর্ট ফর্ম জমা গ্রহণে হয়রানী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাধ্যমে ফর্ম জমা নেওয়া, দালালদের দৈরাত্বসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমান পাই। একজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদ- এবং অফিসের তিনজনের বিরুদ্বে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত ওই অফিসের তিন জনের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে দুদককে জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছবিসহ চার্ট টানানো, তিন বছরের অধিক সময় ধরে থাকা ব্যক্তিদের বদলিসহ বেশ কিছু সুপারিশ করার হয়েছে। একই সাথে কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়।