বাগেরহাটে শত বছরের বৃদ্ধার ভাগ্যে জোটেনি কোন সহায়তা

এইচ এম মঈনুল ইসলাম, মোরেলগঞ্জ থেকে ফিরে
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সখিনা বিবি। বয়স এখন ১০৪। এই বৃদ্ধার ভাগ্যে জোটেনি কোন সরকারি সহায়তা। চেয়ে চিন্তে চলছে তার পেটের খোরাক। যেদিন তিনি প্রতিবেশী বা অন্য কোথাও গিয়ে খাবারের ব্যবস্থা না করতে পারেন, সেদিন অনাহারেই কাটে তার দিন। তাইতো শরীরে শক্তি না থাকলেও মানসিক শক্তি দিয়ে খাবারের সন্ধানে ছুটে চলেন এ পাড়া থেকে ও পাড়া। সেখানে পরিচিত লোকজন কেউ পয়সা দেয়, আবার কেউ বাড়িতে নিয়ে এক বেলা খাইয়ে দেয়। এভাবেই চলেন তিনি। তবে প্রতিবেশীরাই তার দেখভাল করে থাকেন।
চার সন্তানের জননী সখিনার বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর সুতালড়ী গ্রামে। স্বামী আফেল উদ্দিন মারা গেছেন ১৯৭৩ সালে। তারপর থেকে মানুষের বাড়িতে কাজ করে পেটের ভাত যোগাতো সখিনা। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে কর্মক্ষমতা শেষ হয় তার। তারপর থেকে এলাকার মানুষের কাছে চেয়ে চিন্তে চলে তার দিন।
সখিনার ৩ ছেলে ১ মেয়ে। বড় ছেলে আ. হামিদ শেখ খুলনায় শ্রমিকের কাজ করেন। মেঝো ছেলে আব্বাস আলী শেখ মানুষিক রোগী ১ বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে। ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর আলী শেখ শহরে ভ্যান চালিয়ে জীবনযাপন করেন। মাঝে মধ্যে মার ভরন পোষনের জন্য ৩-৪ শ’ টাকা পাঠিয়ে দেন। বড় ছেলেও মাকে মাঝে মধ্যে ৫শ’ টাকা পাঠিয়ে দেন। আর মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়েরও স্বামী মারা গেছে বেশ কয়েক বছর হল। খুলনা শহরে মানুষের বাসায় কাজ করে পেট চলে তার। তারপরও মাঝে মাঝে মায়ের জন্য কিছু টাকা দেন, আসলে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য। তাই ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন এলাকায় মানুষের বাড়িতে খেয়ে জীবন বাচাচ্ছেন তিনি।

এত নিদারূণ আর্থিক কষ্টে থাকলেও সরকারি কোন সহযোগিতা জোটেনি সখিনার কপালে। এলাকায় বাইরে থাকার কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র হয়নি তার। জাতীয় পরিচয়পত্র নেই সে অজুহাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাকে কোন প্রকার সহযোগিতা করেন নাই কখনও ।
সখিনা বলেন, ‘আমি ভিক্ষা করিনা। ভিক্ষা করা পাপ। তবে হাটার পথে পরিচিতজনেরা খুশি হয়ে কিছু দেয়, তাই দিয়ে চলি। বেশী হাটতে পারিনা। মাথা ঘুরায়’।
সখিনা আরও বলেন, সরকারি সাহায্য কোনদিন পাই নাই। সরকারতো অনেক দেয় শুনি। আর কত দিবে। আমার কপালে নাই’।
সাহায্যের প্রয়োজন কিনা জানতে চাইলে বৃদ্ধা সখিনা বিবি চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা যা দিবে তাতেই আমি খুশি। তয়, একখান ঘর আর একটু ভাওতা (ভাতা) পাইলে ভালো হয়’।
বারইখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান লাল বলেন, সখিনা বিবি বহুদিন এলাকায় ছিলনা। তার আইডি কার্ড নেই। তাই তাকে বিধবা ভাতা দেওয়া যায়নি। তবে পরিষদে গেলে তাকে চাল দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান মিন্টু বলেন, সখিনা বিবি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে খুলনায় ছিলেন। যার ফলে তার বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না। আমি খোজ খবর নিচ্ছি। সখিনা বিরি সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথেও কথা বলেছি। দুই একদিনের মধ্যে তার জন্য সম্মান জনক সুযোগ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যাতে তিনি খেয়ে পড়ে ভাল থাকতে পারেন।