বাগেরহাটে জরুরী সেবা ব্যতিত যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাট জেলাবাসীকে করোনামুক্ত রাখতে জরুরী সেবা ব্যতিত সব ধরণের যন্ত্র চালিত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ায় ওই সকল জেলায় কর্মরত লোকজন অন্যত্র (নিজ নিজ জেলায় অথবা অন্য জেলায়) প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাগেরহাট জেলাবাসীকে করোনামুক্ত রাখতে ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাগেরহাট জেলার সাথে সকল সীমান্ত ও আন্তঃ উপজেলা সীমান্তসমূহে জরুরী সেবায় নিয়োজিত যানবাহন ব্যতীত সকল যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে। এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
রোগীবাহী গাড়ি, ঔষধ সরবরাহ গাড়ি, পন্যবাহী গাড়ি, কৃষিপন্য ও সকল ধরণের নিত্য প্রয়োজনীয় মালবাহী গাড়ি, সরকারি গাড়ি ব্যতীত সকল যন্ত্রচালিত গাড়ি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।
এর বাইরেও করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মানুষকে ঘরে রাখতে বিভিন্ন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসন। সচেতনতা মূলক প্রচারণা, ভ্রাম্যমান আদালত, পুলিশ, র‌্যাব ও সেনা বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। শহর, গ্রাম, পাড়া, মহল্লায় যাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, জন প্রতিনিধি ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে ঘরে থাকার জন্য। সরকারি ও বেসরকারি ভাবে কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়া হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী। তারপরও মানুষ ঘরে থাকছে না। জেলাবাসীকে ঘরবন্দি রাখতে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। আগেই গণ পরিবহন বন্ধ করা হয়েছে। জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কে মোটর সাইকেল, অটোরিকসাসহ সকল যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত এক মাসে জেলায় কোন করোনা ভাইরাসের রোগী সনাক্ত হয়নি। জেলার মানুষদের করোনা মুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রশাসন। অতিপ্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে অযথা ঘোরাঘুরি করলে তাদের বুঝিয়ে ঘরে পাঠাচ্ছে। কথা না শুনলে করা হচ্ছে জরিমানা। ৩০টির অধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। গত ১০ দিনে এই জেলায় সামাজিক দুরত্ব না মানায় প্রায় তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে করোনা পরিস্থিতিতে। গুরুত্বর রোগী ছাড়া হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে নিষেধ করা হয়েছে। মুঠোফোনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিমও করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনা উপসর্গ থাকলে তাদেরকে আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে। মানুষকে সচেতন করতে তাদের কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ায় ওই সকল জেলার কর্মরত বাগেরহাটের বাসিন্দারা এলাকায় ফেরার চেষ্টা করছেন। তাদের প্রবেশ ঢেকাতে বাগেরহাটের সবকটি সীমান্ত পথ দিয়ে সব ধরনের যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে।
তিনি বলেন, গত এক মাসে এই জেলায় কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। এটা আমাদের জন্য সুসংবাদ। এই অবস্থা ধরে রাখতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। বাগেরহাটের সব মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মোটরসাইকেল, অটোরিকসা চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলায় ঢোকার মূল প্রবেশ পথ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের নওয়াপাড়া এবং বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের মহিষপুরা এলাকায় বাইরের মানুষদের না ঢুকতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আমরা যদি সব মানুষকে ঘরবন্দি রাখতে পারি তাহলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রেহাই পাব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।