বাগেরহাটে দিনমজুরের ৪ শতাধিক সুপারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক.
বাগেরহাটের কচুয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দিন মজুরের চার শতাধিক সুপারি ও বিভিন্ন ফল গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শিক্ষক গৌতম মন্ডলের বিরুদ্ধে। সোমবার দিবাগত রাতে কচুয়া উপজেলার বড় আন্ধার মানিক গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথ মাতার ৪৪ শতক জমির উপর লাগানো এসব গাছ কাটা হয়। এতে ধীরেন্দ্রনাথের কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কলেজ শিক্ষক গৌতম মন্ডলের নেতৃত্বে কয়েকজন এই অমানবীয় কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ ধীরেন্দ্রনাথ মাতার স্ত্রী রঞ্জু রানী মাতা। এর আগেও দুই বার এভাবে একই জমির গাছ কেটে ফেলেছে গৌতমরা।
অভিযুক্ত গৌতম মন্ডল কচুয়া উপজেলার একটি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক।
রঞ্জু রানী মাতা বলেন, ত্রিশ বছর সরকোশ মন্ডল ও সুকুমার মন্ডলের কাছ থেকে আমি এই জমি ক্রয় করি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত আমি জমিটি ভোগ দখল করছি। কিন্তু হঠাৎ করে গৌতম এই জমি দাবি করে। পরে আদালতে আমরা বাটোয়ারা মামলা করি। আদালত যে যে অবস্থায় আচে সেই অবস্থায় ভোগ দখলের আদেশ দেন। কিন্তু গৌতম ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানী নিখিল মিস্ত্রি, নিন্টু মিস্ত্রি, নবীন, নব ও নিরিপেনকে নিয়ে রাতের আধারে আমার জমির সুপারি, পেপে, কলা, আমসহ ৫ শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে। এর আগে ডিসেম্বর মাসেও দুই বার আমার ওই জমিতে লাগানো কলা গাছ কেটে ফেলেছে। আমরা হত দরিদ্র বলে গৌতমের অত্যাচারের কোন বিচার পাই না। কোথাও বিচার চাইতে গেলে টাকা দিয়ে গৌতম তাদেরকে পক্ষে নিয়ে যায়।
প্রতিবেশী সুশেন মন্ডল, সুকেত মাতা, রঞ্জিত কুমার ডাকুয়া বলেন, আমাদের জীবনেও এমন অমানবিক কাজ দেখিনি। দীর্ঘদিন ধরে ধীরেন্দ্রনাথ মাতা এই জমি ভোগ দখল করছেন। কিন্তু হঠাৎ করে গৌতম জমিটি দাবি করে এবং বিভিন্ন সময় ধীরেন্দ্রনাথের উপর অত্যাচার নির্যাতন করে। গৌতমের নেতৃত্বে যে গাছ কাটা হয়েছে আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
কচুয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক স্থানীয় মনোজ কুমার মন্ডল বলেন, একজন শিক্ষক কিভাবে হতদরিদ্র দিনমজুরের এমন ক্ষতি করে আমি এ ভেবে পাইনা। তাকে শিক্ষিত ডাকাত ছাড়া কিছুই বলার নেই আমার।
এছাড়াও কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন, স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় গৌতম মন্ডল, নিখিল মিস্ত্রি, নিন্টু মিস্ত্রি, নবীন, নব, নিরিপেনসহ কয়েকজন যুবক এলাকার মানুষকে অতিষ্ট করে তুলছে। মাদক সেবন কের বিভিন্ন মানুষের ক্ষয়ক্ষতি করে বেড়াচ্ছে তারা। তাদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে তাকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে। এমনকি শারীরীকভাবেও হেনস্তা করে গৌতমের লোকজন।
অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক গৌতম মন্ডল বলেন, আমার জমি ধীরেন্দ্রনাথ জবর দখল করে খাচ্ছে। এখন আমার নামে গাছ কাটার অভিযোগ দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শফিকুর রহমান বলেণ, বড় আন্ধারমানিক গ্রামে একজন দিনমজুরের গাছ কাটার খবর শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।