সুদের চাপে স্কুল শিক্ষিকা আত্মহত্যার ঘটনায় ৮ জনকে আসামী করে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটের চিতলমারীতে সুদখোরদের চাপে স্কুল শিক্ষিকা হাসিকনা বিশ্বাসের আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মৃত্যুর দুই দিন পরে বুধবার বিকেলে হাসিকনার স্বামী যুগল কান্তি ডাকুয়া বাদী হয়ে ৮জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামী করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে চিতলমারী থানায় এই মামলা দায়ের করেন। এর আগে সুদিকারবারীদের তিরস্কার ও গালিগালাজ সহ্য না করতে পেরে সোমবার বিকেলে নিজ বসত ঘরের আড়ার সাথে গলায় রশি লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন হাসিকনা বিশ্বাস।

নিহত হাসিকনা বিশ্বাস উপজেলার দক্ষিন শিবপুর মধ্যপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা এবং খরমখালি গ্রামের যুগল কান্তি ডাকুয়ার স্ত্রী।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল হক বলেন, নিহতের স্বামী যুগল কান্তি ডাকুয়া বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছি। সঠিক তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগল কান্তি ডাকুয়া বলেন, রবিবার সকালে স্ত্রীকে নিয়ে বাজারের যাওয়ার সময় সুদের পাওনাদার অনুপ, বিকাশ ও রতœা সুদের টাকার জন্য আমাদের প্রচন্ডরকম গালিগালাজ করে। সোমবার বিকাশ ও রতœা আবার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে গালিগালাজ করে যায়। এরকিছুক্ষন পরে বিকেলে আমার স্ত্রী গলায় ফাস দিয়ে আত্ম হত্যা করে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

যুগল আরও বলেন, বিপদে পরে ৬ মাসে সাড়ে চার লক্ষ টাকা পরিশোধের শর্তে বিকাশ ও রত্মার কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা কারেন্ট সুদে লোন গ্রহন করি আমি। কিছু টাকাও দিয়েছি। করোনাকালীন সুদের টাকা না দিতে পারায় ওরা আমাদের উপর মানসিক অত্যাচার শুরু করে। এছাড়া আরও কয়েকটি এনজিও টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।