বেড়িবাঁধে জমি অধিগ্রহনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জেলা প্রশাসকের চেক হস্তান্তর

আলী আকবর টুটুল. বাগেরহাটের শরণখোলায় টেকসই বেড়িবাধ নির্মানের জন্য অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চেক হস্তান্তর করছেন জেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অধিগ্রহনকৃত জমির মালিকদের মাঝে এই চেক হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ। এসময় বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ শাহিনুজ্জামান, শরণখোলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন, সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন সাউথখালী ইউনিয়নের ৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিককে এক কোটি ৩৩ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এদিকে বাড়িতে বসে অধিগ্রহনের টাকা পেয়ে খুশি ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকরা।

চেকগ্রহনকারী মুক্তিযোদ্ধা বারিক হাওলাদার বলেন, আমি বাড়ি বসে ১৪ লক্ষ টাকার চেক গ্রহন করেছি। কোন প্রকার ঘুষ ও দালাল ছাড়া জমি অধিগ্রহনের চেক পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। জমির মালিক রিজিয়া বেগমসহ কয়েক জন বলেন, বেড়িবাধের জন্য জমি অধিগ্রহনের টাকা ঠিকমত পাব কিনা এই নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু কোন প্রকার তদবির ছাড়াই বাড়ি বসে এই টাকা পেয়ে আমরা খুবই উপকৃত হব। ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদেরকে চেক হস্তান্তর শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৩/১ পোল্ডারের শরণখোলার বগী এলাকায় নির্মানাধীন বেড়িবাঁধ পরিদর্শণ করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদসহ অতিথিরা।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ বলেন, কোন এলাকায় উন্নয়ন কাজ করতে হলে জমি অধিগ্রহনের প্রয়োজন হয়। আর জমি অধিগ্রহন হলে এক ধরণের দুষ্টচক্র দালালি করার জন্য সক্রিয় হয়ে ওঠে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদেরকে দালালি ও হয়রানির হাত থেকে বাঁচাতে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা বাড়ি বাড়িতে গিয়ে হস্তান্তর করছি। ভবিষ্যতেও বাগেরহাটের উন্নয়ন কাজের জন্য অধিগ্রহন হওয়ার জমির মালিকদের ক্ষতিপূরনের চেক বাড়িতে গিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।