রেনেসা এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে লোন দিয়ে জোরপূর্বক দ্বীগুন টাকা আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটে হত দরিদ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের লোন দিয়ে জোরপূর্বক দ্বীগুন টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রেনেসা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অবৈধ সুদের ব্যবসা বন্ধ ও অত্যাচার থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক আনন্দ মোহন বিশ্বাসের অত্যাচারের শিকার ও ক্ষতিগ্রস্থরা।বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ক্ষতিগ্রস্থ ঋণ গ্রহিতা ও এলাকাবাসীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধা খিতিস চন্দ্র বালা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রেনেসা এন্টারপ্রাইজ নামের ভুয়া এনজিও করে আনন্দ মোহন বিশ্বাস এলাকার মানুষের উপর নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে। আনন্দ মোহন বিশ্বাস এলাকার শুধু হিন্দুদেরই ঋণ দিয়ে থাকেন। তিনি যে টাকা ঋণ দেন ঋণ গ্রহিতার কাছ থেকে তার দ্বীগুন টাকা আদায় করেন। আর টাকা দিতে না পারলে, বা অস্বীকৃতি জানালে তার উপর শুরু হয় অত্যাচার নির্যাতন।আনন্দ মোহন বিশ্বাস ও তার কর্মীদের অত্যাচারে বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের হালিশহর গ্রামের অমল মন্ডল ও দেবাশীষ এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। আনন্দ মোহন বিশ্বাসকে তার এই অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য এলাকার ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা রেনেসার মালিক আনন্দ মোহন বিশ্বাসকে তার এ ধরণের অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন।তারপরও তিনি স্থানীয় মানুষকে ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও অত্যাচার করে যাচ্ছেন। এর প্রেক্ষিতে আমরা বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে রেনেসা এন্টারপ্রাইজের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি।এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্তও করেছেন।এরপরেও তার অনৈতিক কাজ বন্ধ নেই।আমরা এলাকায় এ ধরণের অনৈতিক কাজ বন্ধ করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই। এই অবৈধ কাজ বন্ধ না হলে এলাকার মানুষ নিস্ব হয়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্থ ঋণ গ্রহিতা লতিকা গোলদার বলেন, আমি ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম রেনেসা এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে। এখন আমার কাছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা চাচ্ছে। টাকা দিতে না পেরে আমি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছি।আমি এই অত্যাচারীর হাত থেকে মুক্তি চাই। আরেক ঋণ গ্রহিতা জ্ঞানেন্দ্রনাথ বালা বলেন, আামি এক লক্ষ টাকা নিয়ে ঋণ নিয়েছিলাম রেনেসা এন্টারপ্রাইজের মালিক এখন দুই লক্ষ টাকা দাবি করছেন। আমি এত টাকা কোথায় পাব। শুধু আমি নয়, এলাকার অনেকের কাছ থেকেই ঋণের দ্বীগুন অর্থ আদার্য় করছেন আনন্দ মোহন বিশ্বাস। রেনেসা এন্টারপ্রাইজ মালিক আনন্দ মোহন বিশ্বাস বলেন, আমাদের কোন ঋণ কার্যক্রম নেই। তবে বাগেরহাট সদর উপজেলার বাখোরগঞ্জ বাজারে রেনেসা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি দোকান রয়েছে। যেখান থেকে চাষীদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মালামাল প্রদান করা হয় বাকিতে। বাকি টাকা সর্বোচ্চ চার বছর সময়ে দেওয়ার সুযোগ রযেছে। যারা চার বছর বসে টাকা প্রদান করেন তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মোছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, রেনেসা এন্টারপ্রাইজের নামে একটি অভিযোগ এসেছে। আমরা যথাযথ নিয়মে তার তদন্ত করছি।যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। তবে রেনেসা এন্টারপ্রাইজের মালিক ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কোন বৈধ কাগজপত্র এখন পর্যন্ত আমাদের দেখাতে পারেননি। যেহেতু বিষয়টি আর্থিক সে কারণে অভিযোগকারীদের আদালতের সরনাপন্ন হওয়ারও সুপারিশ করেন তিনি।