সাইবার অপরাধ থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই

তানজীম. অনলাইন নির্ভর পৃথিবীতে সাইবার অপরাধ খুবই দ্রুততার সাথে বাড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব প্রতিদিন-ই অসংখ্যা মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে। ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল যুগের সাথে সাথে ইন্টারনেটে অপরাধ ও অপরাধীর সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেহেতু এ ধরণের অপরাধ  অনেক দূর থেকে করা যায় তাই বেশিরভাগ অপরাধী-ই এখন সাইবার ক্রাইমকে বেছে নিচ্ছেন। সাইবার অপরাধ থেকে বাঁচতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। ন্যাশনাল চিল্ড্রেনস টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) বাগেরহাট জেলা ও সাইবার অপরাধ বিষয়ক জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সাইবার লাইফ এর যৌথ আয়োজনে অনলাইন কর্মশালা “শিক্ষায় সাইবার সচেতনতা” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ৩ ঘন্টা ব্যাপী এই অনলাইন কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক। এসময় ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ (ডিএমপি’র) সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম, বাগেরহাট সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম, সেভ দ্য চিলড্রেনের ডেপুটি ম্যানেজার (সিআরজি-সিপি) আবু জাফর মোহাম্মদ হোসেন, আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী সাদাত রহমান, বাগেরহাটে কর্মরত গনমাধ্যমকর্মী ও দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

ন্যাশনাল চিল্ড্রেনস টাস্কফোর্স(এনসিটিএফ)বাগেরহাটের সভাপতি এস.এম. মানজুরুল ইসলাম সাজিদের সঞ্চালনায় কর্মশালার মুখ্য আলোচক ছিলেন সাইবার লাইফ এর প্রতিষ্ঠাতা মুনজুরুল করিম। এবং শিক্ষার্থীদের সাইবার অপরাধের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট তামজিদ রহমান লিও।

পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সাইবার স্পেসে আমাদের আচরণ কি হবে সে ব্যাপারে সাইবার নৈতিকতা সংক্রান্ত দুটি অধ্যায় ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকেই পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক বলেন, এই সাইবার সচেতনতা আন্দোলন বাগেরহাট থেকেই শুরু হলো। আমরা এটাকে পুরো দেশে ছড়িয়ে দেবো এবং বাগেরহাট জেলা প্রশাসন সব সময় এই আন্দোলনের পাশে থাকবে বলে জানান তিনি। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের অনলাইন সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।