ডিসির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীণ অভিযোগ, মুখ খুললেন ওই নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক.  মাত্র চার মাস ১৫দিনের মাথায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হককে বদলী আদেশটি প্রচার হলে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। বাগেরহাটবাসীও তার বদলী আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আবেগী পোস্ট করেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নারী কর্মকর্তার সাবেক স্বামীর করা অভিযোগের কপির অংশ বিশেষ (কিছু কিছু জায়গা মুছে ফেলা হয়েছে) ফেসবুকে ভাইরাল ও ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দু-একটি গনমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত নিউজ এবং ওই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নারী কর্মকর্তা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক স্যারের বিরুদ্ধে আমার সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।সেই অভিযোগের ভিত্তিতে যদি কারও বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা অবশ্যই অমানবিক। ১১ই এপ্রিল আমার ডিভোর্সি স্বামী ফখরুল আলমের করা ওই অভিযোগের বিষয়ে আমার সাথে কোন সংবাদকর্মী বা অন্য কেউ কথা বলেনি। এমনকি একটি ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে অনেকে ফেসবুকে বিষয়টি ভাইরাল করেছেন। তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে আমাদের বিবাহ হয়।আমাদের দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে। এরপরেও কারণে-অকারণে তিনি আমাকে সন্দেহ করেন। আমার বয়সে ছোট মামাতো ভাই ও অফিসের কলিগদের নিয়েও তিনি নানা কলহ সৃষ্টি করেছেন। বিয়ের পরে তিনি আমার গায়েও হাত তুলেছেন। তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ২০১৭ সালে প্রথম তাকে ডিভোর্স দেই। পরবর্তীতে সন্তানদের কথা বিবেচনা করে পরিবারের সমঝোতায় আবার সংসার শুরু করি। কিন্তু ফখরুল আলমের স্বভাবের পরিবর্তণ হয় না। তিনি আামার উপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। এমনকি আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে নানান অপপ্রচার চালাতে থাকেন। এক পর্যায়ে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসের শেষ দিকে দুই ছেলেসহ আমি তার সংসার থেকে চলে আসি। এসময় আমার স্বর্ণালংকারসহ সব ধরণের মূল্যবান মালামাল জোর করে রেখে দেন ফখরুল আলম। ০৮ নভেম্বর আমি তাকে ডিভোর্স প্রদান করি। এরপর থেকেই তিনি আমাকে নানারকম হুমকী-ধামকি দিচ্ছেন। হুমকীর প্রেক্ষিতে আমি তার বিরুদ্ধে ঢাকা খিলগাও থানায় সাধারণ ডায়েরীও করেছি। আসলে আমাকে সামাজিক ও পেশাগত ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য আমার ডিভোর্সি স্বামী মোঃ ফখরুল আলম এই অভিযোগ দিয়েছেন।অত্যাচারী স্বামীকে ছেড়ে দুই সন্তান নিয়ে ভালই আছি। সন্তানদের নিয়ে মান সম্মানের সাথে বাঁচতে চাই। ফখরুল আলমের এসব কর্মকান্ড বন্ধে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

ওই নারীর সাবেক স্বামী ফখরুল আলম বলেন, আমি যেসব অভিযোগ করেছি তা সত্য। এই বিষয়ে এর থেকে বেশি কোন কথা বলব না। জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হকের সাথে আপনার স্ত্রীর পরিচয়ের আগেই আপনাদের প্রথম ডিভোর্স কেন হয়েছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আপনার সাথে রাতে কথা হবে। এখন কথা বলতে পারব না।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক বলেন, সরকারি চাকুরীর শর্ত অনুযায়ী আমি পরবর্তী কর্মস্থলে চলে যাব। তবে বাগেরহাটের মোল্লাহাটের একটি ছেলে মন্ত্রিপরিষদত বিভাগে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। ফেসবুকে বিডি প্রথম আলো নামে একটা পেজ খুলে ওই অভিযোগের কপিটিকে ভাইরাল করা হয়েছে। যা জেলা প্রশাসক এর ঐতিহ্যবাহী পদটিকে সম্মানহানী ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টামাত্র। ওই অভিযোগে তার পারিবারিক বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা বানোয়াট কিছু কথা লেখা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তবে আমি এবং আমার পরিবার আমাদের নিজেদের অবস্থানে আত্মবিশ্বাসী৷ আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি যে ওই অভিযোগে আমার কোনো দায় নেই৷ আমার সারল্যের সুযোগ নিয়ে এমন বানোয়াট অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে৷ আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কপিটিও আমি অফিসিয়ালি পাইনি। এ বিষয়ে এখনও আমার নিকট থেকে কোনওরূপ বক্তব্য নেয়া হয়নি।