সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা, তাকে আদালতে নেয়া হয়েছে

দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে আজ সকাল আটটার দিকে আদালতে নেয়া হয়েছে। তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ তাকে পাঁচ দিনের রিমাণ্ডে নেয়ার জন্য আবেদন করেছে। । তবে আদালতে শুনানির সময় এখনও জানা যায়নি।

রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকার শাহবাগ থানায় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধিতে চুরির অভিযোগে এবং ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি সরানো ও অনুমতি না নিয়ে ছবি তোলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে গত রাতে। এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে নেয়া হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। মধ্যরাতের দিকে মামলাটি সম্পর্কে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে পুলিশ। এরআগে গতকাল স্বাস্থ্য সচিবের পিএস-এর কক্ষে তাকে পাঁচ ঘন্টারও বেশি সময় আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিজ ইসলামকে আটকে রাখার পর রাত আটটার দিকে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

শাহবাগ থানার পুলিশের কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, ঐ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সরানো এবং অনুমতি ছাড়া মোবাইল দিয়ে ছবি তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কিছু অসৎ উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে প্রথম আলো পত্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পত্রিকার ব্যবস্থানা সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ বলেছেন, “আক্রোশ থেকে” রোজিনা ইসলামকে আটক করা হয়েছে।

“সম্প্রতি রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, টিকা নিয়ে অব্যবস্থাপনা এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে, যে প্রতিবেদনগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সেই আক্রোশ থেকে তাকে সচিবালয়ে ৫ ঘন্টার বেশি আটকে রেখে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে,” মন্তব্য করেন সাজ্জাদ শরীফ।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের পিএস সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন সচিবালয়ে (সোমবার) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তার কক্ষে ঢুকে রাষ্ট্রীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজ রোজিনা ইসলাম তার ব্যাগে ভরে নেয়ার চেষ্টা করেন এবং মোবাইল দিয়ে ছবি তোলেন। সেই সময় তিনি ধরা পড়েন বলে মি. ইসলাম জানান।

পুলিশ জানিয়েছে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের যেসব সাংবাদিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভবনে ঘটনাস্থলে যান, তারা বলছেন রোজিনা ইসলামকে নানাভাবে হেনস্থা করা হয় এবং একপর্যায়ে সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে মেঝেতে পড়ে যান।

পরে তাকে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলে সেখান থেকে বের করে এনে সরাসরি থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন। রাতে শাহবাগ থানার সামনে বিভিন্ন মিডিয়া কর্মীরা অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

(সূত্র বিবিসি বাংলা)