ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উত্তল সাগর, লোকালয়ে ফিরছেন মাছধরা ট্রলার ও জেলেরা

বাগেরহাট প্রতিনিধি
দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বঙ্গপসাগর থেকে বাগেরহাটের লোকালয়ে ফিরতে শুরু করেছেন মাছধরা ট্রলার ও জেলেরা। সোমবার (২৪ মে) ভোর থেকে তারা উপকূলীয় বিভিন্ন খালে ও নদীতে আশ্রয় নিয়েছেন জেলে ও মাঝিরা। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই বঙ্গপসাগর উত্তল ছিল। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে রাত ও সকালে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন উপকূলে ফিরে আসা জেলেরা।
বঙ্গপসাগর থেকে ফিরে আসা জেলে আবুল কালাম বলেন, চার-পাঁচদিন সাগরে জাল বাইছি, মাছ পোনা নাই। হঠাৎ করে রবিবার সন্ধ্যায় নদীর পানি খুব উত্তাল হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হলে আমরা দ্রæত কূলের দিকে চলে আসি। আরও অনেক জেলে এরকম ঝড়ের কবলে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সোমবার (২৪ মে) দুপুরে বাগেরহাট দড়াটানা নদীর কেবি বাজার, দড়াটানা সেতুসহ নদীর তীরে অর্ধশতাধিক ট্রলার নোঙ্গর করা দেখা গেছে। এসময়ও কয়েটি ট্রলারকে আসতে দেখা গেছে। এছাড়াও শরণখোলার বলেশ্বর নদীর তীরে অন্তত শতাধিক ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।
শরণখোলার রায়েন্দা খালে আশ্রয় নেওয়া মাঝি সালাম শেখ বলেন, শুনেছিলাম সোমবার সন্ধ্যা থেকে ঝড় হবে। কিš‘ রবিবার রাত থেকেই সাগর অনেক বেশি উত্তাল হয়ে ওঠে। কোন মতে প্রাণ নিয়ে ফিরে এসেছি।
ট্রলারের মাঝি আইয়ুব আলী বলেন, রেডিও তে অল্প অল্প ঝড়ের খবর শুনছিলাম। কিš‘ হঠাৎ মেঘ এবং ঢেউ শুরু হলে আমরা দ্রæত উপকূলে ফিরে আসতে বাধ্য হই। আমাদের মত অনেক ট্রলার ফিরে আসছে।
উপকূলীয় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি শেখ ইদ্রিস আলী বলেন, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় সাগরে তেমন কোন ট্রলার ছিল না। তারপরও নানা কারণে কিছু ট্রলার সাগরে ছিল। এসব ট্রলারের বেশির ভাগ লোকালয়ে চলে এসেছে। অন্য যারা আছেন, তাদেরকে নিরাপদ ¯’ানে থাকতে বলা হয়েছে। কিছু ট্রলার সুন্দরবনের মধ্যেও আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান তিনি।