বাগেরহাটে একযোগে শুরু হয়েছে ৭৮টি কেন্দ্রে টিকদান কর্মসুচি

নিজস্ব প্রতিবেদক. বৃষ্টি উপেক্ষা করে আসছে টিকা গ্রহিতা আসছে টিকাদান কেন্দ্রে।বাগেরহাটে একযোগে শুরু হয়েছে ৭৮টি কেন্দ্রে টিকদান কর্মসুচি। শনিবার (০৭ আগস্ট) সকালে জেলার ৯ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ও মোংলা পৌরসভায় করোনা ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে।  এজন্য সকাল ৯টা থেকে বিকেলে তিনটা পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে। ২৫ বছর বয়সী যে কেউ জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে আসলে টিকা গ্রহন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির। এদিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নানা বয়সী মানুষ টিকা নিতে আসছেন। এই কায়ক্রমে খুশি টিকা গ্রহিতা।

আফসারা বেগম বলেন, সরকার বাড়ির দোরগোড়ায় করোনা টিকা কার্যক্রম শুরু করায় আমাদের উপকার হয়েছে। সকালে ঘুমের থেকে উঠে এসে নিরিবিলি পরিবেশে টিকা নিয়েছি। আগে হাসপাতালে যেয়ে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে টিকা দিতে হচ্ছিল। সরকার ওয়ার্ড পর্যায়ে টিকা দেয়ায় সাধারণ মানুষের দারুণ সুবিধা হয়েছে। সুষ্ঠু পরিবেশে টিকা নিতে পেরে খুশি হয়েছি।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের সুবিধামত স্থানে আমরা টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। যে ইউনিয়নবাসীর জন্য যেখানে করলে সুবিধা হয় সেখানেই টিকাদানের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সুষ্ঠ ও স্বাভাবিকভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট সদস্য, রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও ইউনিয়ন পর্যায়ে টহল দিচ্ছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শণ করবেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা প্রদানের কায়ৃক্রম শুরু হয়েছে। জেলার ৭৮টি কেন্দ্রে আমরা ৪৫ হাজার মানুষকে ভ্যাকসিন প্রদান করব। তবে যদি কোন কেন্দ্রে নির্ধারিত লক্ষমাত্রার থেকে বেশি টিকা গ্রহিতা আসেন, তাদেরকেও দেওয়ার জন্য আমাদের টিকার মজুদ রয়েছে। এজন্য ৪৫ হাজার টিকার লক্ষ মাত্রার বিপরীতে আমরা ৬০ হাজার ৮০০ সিনো ফার্মার টিকার মজুদ রেখেছি।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে একদিনের এই টিকাদান কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রুট লেভেলে টিকা দানের সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা আমরা চিহ্নিত করতে পারব। যার ফলে পরবর্তীতে সফলভাবে  এই টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য সহজ হবে।

বাগেরহাট জেলায় বর্তমানে টিকাদান কার্যক্রমের অবস্থাঃ শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে ৬দিন বাগেরহাট সদর হাসপাতাল ও জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা প্রদান চলছে। এ পর্যন্ত বাগেরহাটে ৪০ হাজার ৫০০ মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এক লক্ষ ৭০০ মানুষকে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের জন্য ১৮ হাজার টিকার মজুদ রয়েছে।