ঘুরে দাড়িয়েছে দেশের একমাত্র মহিষ প্রজনন খামার

নিজস্ব প্রতিবেদক. নানা প্রতিকূলতা পিছনে ফেলে ঘুরে দাড়িয়েছে দেশের একমাত্র মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামার। এক সময়ের রুগ্নশীর্ণ খামার এখন হৃষ্টপুষ্ট মহিষে পরিপূর্ণ। প্রতিবছরই বাড়ছে মহিষের প্রজনন, উপকলীয় অঞ্চলে দেশীয় মহিষের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাত উন্নয়নে এই খামার অগ্রনী ভুমিকা পালন করছে। মহিষের মাংস ও দুধে আমিষ এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণ করছে এই অঞ্চলের মানুষের। খামারের পরিধি বৃদ্ধি করতে ভারত থেকে খাটি মুড়া ১৬০টি মহিষ আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা।

মহিষ প্রজনন ‍ও উন্নয়ন খামারের সিনিয়র সহকারি পরিচালক ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে মহিষ খামারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহিষের শেড পরিস্কার ও দুধ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর পরেই শেডের গেট খুলে মহিষগুলোকে প্রাকৃতিক ঘাষ খাওয়াতে মাঠে নিয়ে যায় রাখালরা। খামারে ১২টি শেডে নিলি, মুড়া, ইটালিয়ান, যাত্রাবাদী ও দেশী এই ৫টি জাতের ৪২২টি ছোট বড় মহিষ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি মহিষ থেকে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ১৬০ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয়। প্রতিবছর হাতিয়া, নোয়াখালি, ভোলা, সন্দীপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জেলেদের মাঝে উৎসাহ মূল্যে মহিষ সরবরাহ করা হয়। মহিষের জন্য দানাদার খাবারের পাশাপাশি ৫০ একর জমিতে জার্মান, নেপিয়ার, পাচংসহ পাঁচটি জাতের ঘাষের চাষ করা হয়। মহিষ-লালন পালন ও দেখভালের জন্য ৬২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে এই খামারে। যারা মহিষের শেড পরিস্কার, গোবর সংরক্ষণ, ঘাষের পরিচর্যা, মহিষ চড়ানো, গোসল ও দুধ সংগ্রহের কাজ করে থাকে। বর্তমানে  মানসম্পন্ন খাবার খেয়ে মহিষগুলো হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে বলে জানান খামারের এই কর্মকর্তা।

বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা  ডা. মোঃ লুৎফর রহমান বলেন , উন্নত জাতের মহিষের সিমেন নিয়ে এই খামারে কৃত্রিমভাবে প্রতিবছর ৬০ থেকে ৭০টি বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। খামারটি আরও বৃদ্ধি করতে ভারত থেকে মুড়া জাতের ১৬০টি মহিষ আনার প্রক্রিয়া চলছে । দেশীয় মহিষের জাত উন্নয়ন ও পালন বৃদ্ধির জন্য ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার শ্যামবাগাত নামকস্থানে ৯৫ একর জমির উপর দেশের একমাত্র মহিষ প্রজনন ‍ও উন্নয়ন খামার গড়ে তোলা হয়।