“যে ভাবে হবে শিকদার বাড়ির দূর্গাপূজা “

নিজস্ব প্রতিবেদক. হিন্দু ধর্মালম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গা পূজা। বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রামজুড়েই সনাতন ধর্মালম্বীরা এই উৎসব পালন করে। দূর্গা পূজার পাঁচদিনে সমগ্র দেশেই একটা উৎসবের আমেজ লেগে থাকে। গেল কয়েক বছর ধরে এই উৎসব আয়োজনে ভক্ত দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের শিকদার বাড়ি পূজার আয়োজন।  প্রতিমার সংখ্যার দিক দিয়ে এই মন্ডপ কে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সব থেকে বড় মন্ডপ বলে দাবি করেন আয়োজকরা।

সর্ব প্রথম ২০১১ সালে ২৫১টি প্রতিমা নিয়ে প্রথম দূর্গাপূজার জমকালো আয়োজন শুরু হয়। সেই থেকে প্রতিবছর বড় মহাধুমধামে পূজা হয়ে আসছে এই বাড়িতে।২০১৯ সালেও ৮০১টি প্রতিমা নিয়ে এই বাড়িতে পূজা উদযাপিত হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে ২০২০ সালে শিকদার বাড়িতে খুবই সীমিত পরিসরে পূজা উদযাপিত হয়েছে। এবছরও স্বল্প পরিসরে শুধুমাত্র জরুরী ধর্মীয় আচার রক্ষার্থে দূর্গা পূজার আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এবারের আয়োজনে নেই তেমন কোন শানশওকত। করোনা পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শিকদার বাড়িতে এলাকার বাইরের দর্শনার্থীদের না আশার অনুরোধ করেছেন আয়োজকরা। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও বড় পরিসরে মহাধুমধামে শিকদার বাড়িতে দূর্গা পূজার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজক লিটন শিকদারের ভাই শিশির কুমার শিকদার।

তিনি বলেন, “ ২০১১ সাল থেকে আমরা বাড়িতে মহা ধুমধামে পূজার আয়োজন করি। প্রতিবছর পূজা শুরুর ছয় মাস আগে থেকেই মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করি আমরা। কিন্তু এ বছর যখন প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করার সময়, তখন দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। যার কারণে আমরা এ বছরও পূজার আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ প্রতিবছর পূজা দেখতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে এই পূজামণ্ডপে। ফলে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি সামাজিক দুরত্ব মেনে এই উৎসব করা সম্ভব হবে না। তবে সংক্ষিপ্ত পরিসরে পারিবারিকভাবে শুধু মা দূর্গার প্রতিমা সেট তৈরি করে স্বল্প পরিসের পূজা-আর্চোনা করা হবে।”

আতিয়ার রহমান নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শিকদার বাড়ির দূর্গা পূজাকে কেন্দ্র এই এলাকায় অনেক বড় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশ থেকে হিন্দু-মুসলমান লক্ষ লক্ষ মানুষ এই পূজা মন্ডপ দেখতে আসেন। পূজা মন্ডপের আশপাশে এক কিলোমিটার জুড়ে বসে বিভিন্ন খাবার ও খেলনার পসরা। কিন্তু গেল বছর করোনার কারণে এখানে স্বল্প পরিসরে পূজা হয়েছে। এবার আরও স্বল্প পরিসরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা দোয়া করি করোনা নে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, শিকদার বাড়িতে আবারও মিলন মেলা বসে।

শিকদার বাড়ি দূর্গা পূজার প্রধান প্রতিমা শিল্পি বিজয় ভাস্কর বলেন, শুরু থেকে আমরা এই বাড়িতে প্রতিমা তৈরি করি। প্রতিবছর পূজার ৬ মাস আগে আমরা প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ শুরু করি। কিন্তু এবছর প্রতিমা তৈরির জন্য খুবই অল্প সময় লেগেছে। কারণ এবছর শুধু মা দূর্গার প্রতিমা সেট করা হয়েছে।  তবে এই সময়ে আমরা শিকদার বাড়িকে সাজানোর জন্য অনেক কাজ করেছি। শিকদার বাড়ির পুকুর ঘাট, প্রবেশ ফটক ও ভবনের সামনে একটি আকর্ষনীয় ভাস্কর্য তৈরি করেছি আমরা।

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের বাগেরহাট জেলার সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার ব্যানার্জী বলেন, “ব্যক্তি উদ্যোগে দেশের সবচেয়ে বেশি প্রতিমা নিয়ে দূর্গা পূজার আয়োজন করা হয় শিকদার বাড়িতে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থাকায় গত বছর তেমন কোন আয়োজন ছিলনা ওই বাড়িতে। করোনা সংক্রমন ও জন সমাগম ঘটে এড়াতে এবছরও বড় আয়োজন করছেনা ওই পরিবার। আমরাও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার্থে অতিরিক্ত বড় আয়োজন করতে অনুৎসাহিত করেছি ভক্তদের।#