নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শামীম মৃধা নামের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার জিউধরা গ্রামে এঘটনা ঘটে।
হামলাকারীরা নগদ ৫ লক্ষ টাকা, খামারের ৪ শতাধিক হাস, সাড়ে তিনশ মুরগিসহ অন্তত ২০ লক্ষ টাকার মালামাল লুটে নেয় বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটির। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্থ শামীম মৃধা ওরফে শুকুর মৃধা জিউধরা গ্রামের ইসমাইল হোসেন মৃধার ছেলে। তিনি জিউধরা বাজারের নগদ-বিকাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আফিফ টেলিকমের স্বত্ত্বাধীকারি।
শামীম মৃধার স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ ইউসুফ মৃধার সাথে বিরোধ ছিল। ঘটনার সময় তার স্বামী শামীম মৃধা নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র বাড়ি ফিরে খামারে যায়। এরই মধ্যে ইউসুফ মৃধার নেতৃত্বে দাউদ মৃধা, গিয়াস মৃধাসহ ৪০-৫০ জনের একটি বাহিনী তার বাড়িতে প্রবেশ করে। তখন পিছন থেকে তার স্বামীকে হামলা করে ও ব্যাগে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৫ লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেয়। খামারে লুটপাট চালায়। কেউ হাস জবাই করে বস্তা ভরে, আবার কেউ মুরগি জবাই করে বস্তায় ভরে নিয়ে যায়। জীবিত হাস-মুরগিও নিয়েছে কয়েকজন। বাঁধা দিলে তাদের স্বামী-স্ত্রী, তিন বছরের সন্তান ও বৃদ্ধমাকে ধারালো অস্ত্রে মুখে জিম্মি করে লুটপাট চালায়। লুটপাট ও ভাংচুর শেষে বসত ঘরে আগুন দিয়ে চলে যায় দূর্বৃত্তরা।

সুমি বেগম আরও বলেন, ভয়ে সারাতার তারা কেউ ঘুমাতে পারেনি। তাকে এবং তার স্বামীকে মারধরও করেছে হামলাকারীরা। লুটে নেওয়া সম্পদ ফেরত এবং ন্যাক্কার জনক ঘটনার বিচার দাবি করেন এই নারী। ব্যবসায়ী শামীম মৃধা বলেন, এমন ন্যাক্কার জনক হামলা করবে তা কখনও ভাবিনি। লুটপাট করে আমাকে আর্থিকভাবে শেষ করে দিয়েছে। হামলার বিচার এবং লুটে নেওয়া সম্পদ ফেরত পেতে পুলিশ-প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই ব্যবসায়ী।
অভিযুক্ত ইউসুফ মৃধা বলেন, শামীম মৃধা আমার ভাইয়ের ছেলে। আমার সম্পত্তির মধ্যে তারা ঘর তৈরি করতে চেয়েছিল। বাঁধা দিলে তারা শোনেনি। পরে আমার ছেলে ও তার বন্ধুরা একত্রিত হয়ে ঘরটি ফেলে দেয়। কোন লুটপাটের ঘটনা সেখানে ঘটেনি।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহমুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এখনও কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।