নিজস্ব প্রতিবেদক. দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট ও নার্সদের টানা কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। টানা পাঁচ দিনের মতো বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন তারা। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় নানাভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
কর্মসূচি শেষে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন রেডিওগ্রাফি ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শেখ মো. জাকির হোসেন, ফার্মাসিস্ট কাজী মো. লিয়াকত, মো. আমিনুর রহমান, চম্পা খাতুন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. শহিদুল ইসলাম, হাসনাত জামান রাসু, মনিরা খাতুন ও চয়ন দত্ত প্রমুখ।বক্তারা বলেন, অন্যান্য বিভাগে কর্মরত ডিপ্লোমাধারীদের মতো ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদেরও দশম গ্রেড পাওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হয়।অন্যদিকে একই সময় কর্মবিরতি পালন করেন নার্সিং উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক খাদিরা খাতুন, নার্সিং সুপারভাইজার হালিমা খাতুন, নাজমা খানমসহ ইন্টার্ন ও স্টুডেন্ট নার্সরা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কামাল হোসেন বলেন, “সকাল থেকে লাইনে আছি, কোনো টেস্ট হচ্ছে না। এখন বলছে কর্মবিরতি। গরিব মানুষ এভাবে কোথায় যাব?রোগীর স্বজন রহিমা বেগমের আক্ষেপ, বাচ্চার জরুরি রক্তপরীক্ষা লাগবে। সরকারি হাসপাতালে না হলে বাইরে করতে গেলে অনেক খরচ। খুব বিপদে পড়েছি।
সালাম শেখ নামের এক রোগী বলেন, “চিকিৎসা পেতে এসে দেখি সব বন্ধ। প্রতিদিন যদি এমন হয়, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে। দশম গ্রেড দাবিতে মেডিকেল লজিস্টিক ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি অব্যাহত ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরাজেলা প্রতিনিধি বাগেরহাটদশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৫ দিনের মত অর্ধ দিনে কর্মবিরতি পালন করেছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিসরা।
রেডিও গ্রাফি ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শেখ মো জাকির হোসেন বলেন, ১০ গ্রেড্রের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাগেরহাটে দুই ঘন্টার বিরতি পালন করছি। বিভিন্ন পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স এবং ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের ১১তম গ্রেড হতে দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছে। আমাদের দাবি ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিসদের দশম গ্রেডে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা আমাদের এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখব।
অবিলম্বে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর কর্তৃক প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম, স্ট্যান্ডার্ড সেটআপ এবং ক্যারিয়ার প্যাথ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।, নার্সদের পরবর্তী উচ্চতার পদগুলোতে (নবম থেকে চতুর্থ গ্রেড) ভূতাপেক্ষভাবে পদ প্রমার্জনের মাধ্যমে পদোন্নতিসহ সুপারনিউমেরারী পদোন্নতি দিতে হবে, অনতিবিলম্বে নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্সিং ইন্সট্রাক্টর পদ ২টি কে অন্যান্য অধিদপ্তরের ন্যায় দশম থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে। ডিপ্লোমা নার্স-মিডওয়াইফদের সনদকে স্নাতক (পাস) সমমান দিতে হবে এবং সকল গ্র্যাজুয়েট নার্স-মিডওয়াইফদের জন্য প্রফেশনাল বিসিএস চালু করতে হবে। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও নার্সিং মিডওয়াইফারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়োগবিধি ও বেতনকাঠামো প্রণয়ন করতে হবে এবং অপ্রশিক্ষিত ও নিবন্ধন বিহীন ভুয়া নার্স মিডওয়াইফদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নার্স-মিডওয়াইফদের ঝুঁকি ভাতা প্রদানসহ নার্সদের উপর জোরপূর্বক স্বৈরাচারী সরকারের চাপিয়ে দেয়া নার্সিং ইউনিফর্ম পরিবর্তন করতে হবে। শয্যা, রোগী ও চিকিৎসক অনুপাতে নার্স-মিডওয়াইফদের পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ দিতে হবে।