আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট. বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ জেলার ৩টি হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেচেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সড়ক পথে শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ওই হাসপাতালে প্রবেশ করেন। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, মোরলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এসময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন। হাসপাতালে প্রবেশ করেই মন্ত্রী মূল ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যান। রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলেন। ধৈর্য্য ধরে নানা সংকটের কথা শোনের মন্ত্রী। পরে হাসপাতালের স্টক রেজিষ্টার পর্যালোচনা করেন। হাসপাতালে ক্রয় করা রিয়াজেন্ট খুজতে বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করেন। হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষ খুলে চক্ষু চরকগাছ হয় মন্ত্রী ও সরকারি আমলাদের। পরিত্যক্ত ওই ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ভর্তি সরকারি ঔষধ, স্যালাইন, সুই সিরিঞ্জ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী। এমনকি সৌচাগারেও ছিল স্যালাইন ও ঔষধের স্তুপ। এসব বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেন মুফতি কোন সদুত্বর দিতে পারেননি। পরে হাসপাতালে থাকা বায়োমেট্রিক হাজিরা রেজিষ্ট্রার পর্যালোচনা করেন তিনি। সময় ঠিকমত সময়তে তাদের না আসার বিষয়টি দেখতে পান।কয়েকজন চিকিৎসকের আশা-যাওয়ার সময়ে অমিল থাকার কারণ জানতে চান।
অভিযোগ থাকায় তিনি হাসপাতাল চত্বেরে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (টিএইচও) বাসায় যান। হাসপাতালে সংকট তৈরি করে পাশে নিজেস্ব ক্লিনিক খুলে সেবা দেওয়া প্রমান পান। সেই ক্লিনিকও পরিদর্শণ করেন মন্ত্রী। সেখানে কোন চিকিৎসকে পাননি তিনি। এসব নিয়ে মন্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে ভৎসনা করেন। চিকিৎসকরা যথাসময়ে হাসপাতালে আসছেন কি না তা দেখতে বায়মেট্রিক হাজিরা শিট যাচাই করেন। এ ওই হাসপাতালে থাকতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ফোন করেন বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল আলমকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে তিনি বলেন, আমি ছুটিতে আছি। তখন মন্ত্রী জানতে চান আপনি কার কাছ থেকে ছুটি নিয়েছেন। সিভিল সার্জন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কাছ থেকে মৌখিকভাবে ছুটি নেওয়ার কথা বলেন। পরে স্বাস্থমন্ত্রী ফোন করেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেনকে। এ সময় সিভিল সার্জনের ছুটির বিষয়টি তিনি জানে না বলে জানান। পরে মন্ত্রী তাকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করে এই অব্যবস্থাপনার দায় কার তা নির্ণয় করতে বলেন।

পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাসপাতালে থাকা সীমাবদ্ধতার মধ্যে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা দরিদ্র, মেহনতি মানুষ সেবা পাক। এই সেবার উদ্দেশ্যে ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নিত করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে। কিছু রিপোর্ট পেয়েছি, যেখানে যেখানে রিপোর্ট পাই সেখানে যাচ্ছি। ধরেন এতোবড় বাংলাদেশে চারমাসে সব হাসপাতাল পরিদর্শন করা সম্ভব না। যেখানে রিপোর্ট পাই সেখানে দৌড়ে যাই। আজ এখানে আসছি, আপনারও ছিলেন। এখানে সব দেখলাম। নোট করে নিয়ে গেলাম। বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে। আমি ঢাকায় ফিরি। আমারওতো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ আছে, তাদের সাথে আলাপ করে জনস্বার্থে যা করণীয় তা আমরা করব। সামনে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় পরিবর্তন আসবে বলেও বলে মন্ত্রী। পরে তিনি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানেও রোগীর সাথে কথা বলেন। রোগীদের সাথে দূর্ব্যবহারের কারণে একজন সিনিয়র নার্সকে ভৎসনা করেন। ভবিষ্যতে ভাল ব্যবহারের পরামর্শ দেন। বাজে ব্যবহারের শিকার ওই রোগীকে নিজের মুঠোফোন নাম্বার লিখে দেন এবং পুনরায় এধরণের ব্যবহার করলে মন্ত্রীকে ফোন দিয়ে জানাতে বলেন।

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একই ভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কক্ষ পরিদর্শন করেন। সার্বিকভাবে এই হাসাপাতালের কাযক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়নের আশ্বাস দেন। সেখান থেকে সড়ক পথে সরাসরি বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আসেন তিনি। জেলার প্রধান এই চিকিৎসালয়েও তিনি একইভাবে সব ওয়ার্ড, রান্নাঘর, সৌচাগার ও গুদাম ঘর পরিদর্শন করেন। হাসপাতালে চিকিৎসক, কর্মচারী সংকট পূরণের দ্রুত চিকিৎসক পদায়নের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দারসহ চিকিৎসক ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে অবহেলিত হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর এমন ঝটিকা সফরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কামাল হোসেন মুফতির দূর্নীতি ও তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।