নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাট স্ত্রী-সন্তান হারা বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামের জামিনেও তেমন উচ্ছাস নেই পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে। পরিবার ও স্বজনদের দাবি স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে জামিন হল না, কিন্তু এখন জামিন দিয়ে কি হবে। তারপরও রাষ্ট্র জামিন দিয়েছে ভাল হয়েছে বলে জানান সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরাম। তিনি বলেন, “আমি এখন কি বলব, জামিন হইছে, আগেও জামিন চাইছি। আগে কয়েকবার জামিন হয়েছে কিন্তু বের হতে পারেনি। এখন জামিন হওয়া, আর না হওয়া সমান কথা। তারপরও জামিন হয়েছে ভাল কথা, কিন্তু বাড়ি এসে তো দেখবে ছেলে বউয়ের কবর, তাহলে এই জামিন দিয়ে কি হবে।”
সাদ্দামের শ্বশুর জাতীয় পার্টি নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, সাদ্দামের জামিন হয়েছে এতে আমি সন্তোষ প্রকাশ করছি। পাশাপাশি প্যারোরে জামিন চেয়েছিল, সেই জামিন না দেওয়া অমানবিক বা মানবিক কাজ হয়েছে সেই বিচার চাই রাষ্ট্রের কাছে। প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, প্যারোলে মুক্তির জন্য আমরা আবেদন করছি, কিন্তু আমরা ব্যর্থ। এখন এই জামিনের জন্য আমরা সকলকে ধন্যবাদ জানাই।
সাদ্দামের শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভ বলেন, এই জামিন দিয়ে কি হবে। এদেশে সব নাটকীয়তা। সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার বেঞ্চ এই আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি সাঈদ আহমেদ রাজা সাদ্দামের পক্ষে শুনানী করেন। বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের(নিষিদ্ধ সংগঠন)সভাপতি।
২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটে মডেল থানায় ছাত্রজনতার উপর হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন তিনি।এরই মধ্যে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্নালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন শনিরার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে গোছল শেষে বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাদের মরদেহ। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। ওই দিন স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে রাত ১১ টা ২০ মিনিটে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বর্নালীর বাবার বাড়ির কবর স্থানে তার ও তার ছেলের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী সন্তানের মৃত্যুর পরেও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।