নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটে স্ত্রী-সন্তান হারানো ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট)। সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, আদালত মানবিক বিবেচনায় সাদ্দামকে জামিন দিয়েছেন। বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের(নিষিদ্ধ সংগঠন)সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের জামিনে স্বজন ও এলাকাবাসি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাটে ফকিরহাটে ছাত্রজনতাকে গুলি করা, বোমা বিস্ফোরণ ও স্থাপনা ধ্বংসের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন তিনি।
গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্নালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন শনিরার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে গোছল শেষে বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাদের মরদেহ। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। ওই দিন স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে রাত ১১ টা ২০ মিনিটে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বর্নালীর বাবার বাড়ির কবর স্থানে তার ও তার ছেলের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী সন্তানের মৃত্যুর পরেও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে সোমবার আদালত তাকে জামিন দেয়।
বাগেরহাট জেলা জজ্ আদালতের আইনজীবী তাজিনুর রহমান পলাশ বলেন, সাদ্দাম গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে, আদালতে বিভিন্ন মামলায় জামিন পেয়েছেন। একটা মামলায় জামিন পেলে, তাকে আবার অন্য একটি পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হত। সব শেষ চিতলমারীর একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই মামলায়ও আজকে উচ্চ আদালত মানবিক বিবেচনায় জামিন দিয়েছেন। তার বিরুদ্ভে এ পযন্ত ৮ মামলা রয়েছে। ##