শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে দুই মোটরসাইকেল ও নসিমনের সাথে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন রেকর্ড ১৩২১ মেগাওয়াট উৎপাদন, যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে বাগেরহাটে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ ইউপি প্রশাসক বাগেরহাটে জমি দখলের চেষ্টা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ভিডিও নজরে আসতেই দুলিপা পারভীন ও হোসাইনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ডা. জুবাইদা রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৮ দিন বন্ধ থাকার পর দ্বিতীয় ইউনিট চালু ​মোড়েলগঞ্জে মাদকসহ ব্যবসায়ী আটক  ​ বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় ফিরেছে প্রান-প্রকৃতি, কমেছে অপরাধ রামপালে রামপালে বাঁধ ভেঙ্গে দুইশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, টেকসই বাঁধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

৮ হাজার লেয়ার মুরগি মারা যাওয়ায় নিঃস্ব খামারি ঋণের চাপে আত্মহত্যার আশঙ্কা

রিপোর্টার- / ২৬৫ পড়া হয়েছে
সময়- মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে প্রায় ৮ হাজার লেয়ার মুরগি। ষোল বছরের সফলতার  স্বপ্ন এক নিমিষেই শেষ খামারি সোহাগ শেখের। ঋনের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সে। সরকারী সহায়তার দাবী খামারীর। আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষা নিরিক্ষার পর জানাযাবে কি রোগে মারা গেছে মুরগী জানিয়েছে  প্রানী সম্পদ ।

প্রায় ১৬ বছর ধরে লেয়ার মুরগির খামার পরিচালনা করেন বাগেরহাট সদর উপজেলার চাপাতলা গ্রামের সোহাগ শেখ।পরিবারসহ ১০-১২ জন কর্মচারীর জীবিকা নির্ভর করছিল এই খামারের ওপর। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর থেকে হঠাৎ করে মুরগি মারা শুরু করে। প্রথমে স্বাভাবিক রোগ ভেবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু বার্ডফ্লু রোগে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মুরগি মারা যায়। বর্তমানে মাত্র তিন হাজার ডিমপাড়া মুরগী রয়েছে। তার  অবস্থা সংকটাপন্ন । এ অবস্থায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার লোকসানে পড়েছে। বর্তমানে ঋনের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছে খামারী। পুনরায় ঘুরে দাড়াতে সরকারী সহায়তার দাবী খামারীর।

সোহাগ শেখ জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে লেয়ার মুরগির খামার পরিচালনা করছেন তিনি। ধীরে ধীরে পুঁজি বাড়িয়ে ৮ হাজার মুরগির বড় খামার দাঁড় করান। পরিবারসহ চারজন কর্মচারীর জীবিকা নির্ভর করছিল এই খামারের ওপর।

কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর থেকে হঠাৎ করে মুরগি মারা শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক রোগ ভেবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মুরগি মারা যায়। বর্তমানে মাত্র তিন হাজার আছে, সেগুলোর অবস্থাও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং পরে প্রায় সবই মারা যায়।

ঋণের চাপে দিশেহারা খামারি সোহাগ শেখ বলছেন, “সবাই যদি এভাবে চাপ দেয়, তাহলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার আর কোনো পথ থাকবে না।”

৮ হাজার মুরগিতে কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ ছিল। সব শেষ হয়ে গেছে। মারা যাওয়া মুরগি কেউ কিনতে চায় না। অনেক মুরগি নদীতে ফেলে দিতে হয়েছে।”

শুধু রোগেই নয়, কয়েক বছর ধরে ডিমের কম দামের কারণেও লোকসান গুনছিলেন তিনি।
প্রতি বছর দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লোকসান গেছে। ৮ হাজার মুরগিতে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা লস হয়েছে। তারপরও ব্যবসা চালিয়ে গেছি এই আশায় যে একদিন ঘুরে দাঁড়াবো, বলেন সোহাগ।

খামারে ছয়জন কর্মচারী রয়েছেন। প্রত্যেককে মাসে ১৬ হাজার টাকা করে বেতন দিতে হয়। লোকসান হলেও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ করিনি। নিয়মিত টাকা দিয়েছি। এখন ঘরে দুই বেলা খাবার জোটানো কঠিন হয়ে গেছে, যোগ করেন তিনি।

সোহাগ শেখের অভিযোগ, ভালো সময়েই বিভিন্ন দোকানদার ও কিস্তির লোকেরা বাসায় এসে লোন দিতে আগ্রহ দেখাতেন। খাবার, ওষুধ পর্যন্ত বাড়িতে পৌঁছে দিতেন। এখন পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তারাই দ্বিগুণ টাকা দাবি করছেন।

এক লাখ টাকা জায়গায় দুই লাখ লিখছে। দোকান থেকে যা পাওনা, তার চেয়ে বেশি দাবি করছে। সময় চাইছি, কেউ সময় দিচ্ছে না। উল্টো মামলা করার হুমকি দিচ্ছে, বলেন তিনি।

তার দাবি, রাস্তা দিয়ে বের হতেও ভয় লাগে। অপমান করছে। আমার বড় কোনো আত্মীয় নেই যে পাশে দাঁড়াবে। ছেলে বাচ্চার দিকে তাকিয়ে এখনো বেঁচে আছি।”

খামারির স্ত্রী আকালিমা বেগম বলেন, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ঘরে টাকা নেই। কাল আমার সরকারি খরচে অপারেশন আছে। স্বামীর এই অবস্থা দেখে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।“যারা টাকা পাবে তারা যদি এক বছর সময় দিত, আমরা আস্তে আস্তে শোধ করে দিতাম। এখন সবাই একসঙ্গে চাপ দিচ্ছে। আমার স্বামীকে অপমান করছে। আমরা কোথায় যাবো?

এবিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কুমার দাস বলেন, আমরা খামার পরিদর্শনে করে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ