বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
২০ এপ্রিল থেকে বাগেরহাটে হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু  খানজাহান আলী মাজারের কুমির-কুকুর কান্ড : কুকুরটি জলাতঙ্ক সংক্রামন ছিল   বাগেরহাটের জেলা বিএনপির উদ্যোগে বর্ষবরণ ও আনন্দ র‌্যালী বাগেরহাটে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মানববন্ধন বাগেরহাটে বর্নাঢ্য আয়োজনে বাংলা বর্ষবরণ সংরক্ষিত আসনের শহিদ পরিবার থেকে প্রার্থী চায় সংগ্রামী নেত্রী শারমিন সুলতানা রুমা জ্বালানি সংকট: মোংলা বন্দরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা গণভোটের বাস্তবায়ন দাবিতে বাগেরহাটে ১১ দলের বিক্ষোভ, রাজপথে থাকার হুঁশিয়ারি বাগেরহাটে মাজার সংলগ্ন দিঘীর ঘাট থেকে কুকুরকে ধরে নিয়ে গেল কুমির, বাগেরহাটে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারি, পানি ও স্যালাইন নিয়ে জেলা ছাত্রদল

খানজাহান আলী মাজারের কুমির-কুকুর কান্ড : কুকুরটি জলাতঙ্ক সংক্রামন ছিল  

রিপোর্টার- / ৪ পড়া হয়েছে
সময়- বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাট বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ) এর মাজার সংলগ্ন দিঘীতে কুমিরের আক্রমনে মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল। দর্শনার্থীসহ যাদেরকে কুকুরটি আক্রমন করেছে তারা জলাতঙ্ক রোগের ঝুকিতে রয়েছেন। কুকুরটিকে ইচ্ছে করে কুমিরের মুখে দেওয়ার প্রমান পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসনের করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে ।

বৃহস্পতিবার তিন সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করেন।  গেল ০৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাট থেকে একটি কুকুরকে শিকার করে নিয়ে যায় দিঘীতে থাকা একমাত্র কুমির ধলা পাহাড়। কুকুরটিকে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। কুকুরের মৃত্যুর কারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের সত্যতা জানতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। ১১ এপ্রিল বিকেলে জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে মাজার এলাকায় কুকুরের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। কুকুরটির মাথা ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল) এ পাঠানো হয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিল।  বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, সিডিআইএল থেকে পাওয়া ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিল। ওই কুকুর যাদের কামড়েছে তারাও জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকিতে রয়েছে। তবে কুকুর দ্বারা আক্রান্ত যাদের সাথে কথা হয়েছে, তারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন।  কুকুরকে আক্রমন করা কুমির জলাতঙ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, কুমিরের আসলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি নেই। কারণ কুমির হিংস্র প্রাণি তাই তার জলাতঙ্ক আক্রান্ত হওয়ার কোন ঝুকি নেই।তবে যেসব মানুষকে কামড়েছে, তাদের টিকা নেওয়া উচিত বলে পরামর্শ দেন তিনি।

জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ এবং অধিকতর তদন্ত শেষে আমরা রিপোর্ট জমা দিয়েছি। বিভিন্ন প্রমানক সংগ্রহ করেছি। তদন্তে কুকুরকে ইচ্ছে করে কুমিরের মুখে দেওয়ার প্রমান পাওয়া যায়নি। কুকুরটি দূর্ঘটনাবসত পুকুরে পড়ে যায়। কুকুরটি জলাতঙ্ক আক্রান্ত ছিল।  তিনি আরও বলেন, কুকুরটি একাধিক মানুষকে কামড় দিয়েছে। মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকান টিকা নিয়েছে, হাসপাতাল থেকে আমরা সে প্রমানক সংগ্রহ করেছি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল। এছাড়া কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃত কুমিরের মুখে দেওয়ার কোন প্রমান পায়নি তদন্ত কমিটি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ