নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়ল হত্যা ও বিএনপির নেতা আব্দুল্লাহ হত্যার চেষ্টার প্রতিবাদে জামাত ইসলামের সন্ত্রাসীদের ফাঁসির দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুন) বিকালে বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের শহীদ মিনার চত্তরে এসে শেষ হয়। মিছিলে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকরাম হোসেন তালিম, সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম, বিএনপি নেতা জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিষ্টার মো. জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, কামরুল ইসলাম গোরা, বিএনপি নেতা খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ, খান মনিরুল ইসলাম, সৈয়দ নাসির আহম্মেদ মালেক, শেখ শাহেদ আলী রবিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
বিএনপি নেতা জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিষ্টার মো. জাকির হোসেন বলেন, বাদল মোড়ল হত্যাকাণ্ড ছিল একটি পরিকল্পিত। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এই হত্যাকাণ্ড নীল নকশা জামাত করেছিল। পুলিশের কাছে সব ধরনের ইনফরমেশন থাকার কথা। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়রা বলেছেন, নিশ্চিত করে বলা যায় জামাতে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচকে সামনে রেখে তারাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বারুইপাড়া সহ বাগেরহাটে ৭৫ টি ইউনিয়নে অরাজকতা করে দখল করতে চাইছে । আমরা কোনভাবেই সেটা মেনে নিতে পারি না। আমরা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের আইনে আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি ।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকরাম হোসেন তালিম বলেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় অত্যাচার নির্যাতন গন্ডগোল তৈরি করছে । সকল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান । তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে । “বাদল হত্যা মামলার সকল আসামিকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত সাড়ে দশটার দিকে বারুইপাড়া এলাকা থেকে ফকিরহাট সদরের উদ্দেশ্যে রওনা হয় বাদল মোড়ল ও আব্দুল্লাহ মোড়ল। পথে নিয়তির মাঠ এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত দূর্বৃত্তরা হামলা করে। দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হন সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি বাদল মোড়ল। এসময় বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভপতি আব্দুল্লাহ মোড়ল আহত হয়। আহত আব্দুল্লাহ মোড়লকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে পুলিশ ইতোমধ্যে এ মামলায় দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।