শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে দুই মোটরসাইকেল ও নসিমনের সাথে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন রেকর্ড ১৩২১ মেগাওয়াট উৎপাদন, যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে বাগেরহাটে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ ইউপি প্রশাসক বাগেরহাটে জমি দখলের চেষ্টা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ভিডিও নজরে আসতেই দুলিপা পারভীন ও হোসাইনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ডা. জুবাইদা রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৮ দিন বন্ধ থাকার পর দ্বিতীয় ইউনিট চালু ​মোড়েলগঞ্জে মাদকসহ ব্যবসায়ী আটক  ​ বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় ফিরেছে প্রান-প্রকৃতি, কমেছে অপরাধ রামপালে রামপালে বাঁধ ভেঙ্গে দুইশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, টেকসই বাঁধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নৌপরিবহন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ,তদন্তের দাবি

রিপোর্টার- / ৮৮ পড়া হয়েছে
সময়- বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক. বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাঈম খানের বিরুদ্ধে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করেছেন নাঈম খান ও তার পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
নাঈম খানের পরিবারের দাবি, ওই তরুণীর সঙ্গে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কিছুদিন কথা হয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক বা সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক ও পেশাগতভাবে নাঈম খানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে মামলাটি করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে ওই তরুণী একটি ভাড়া করা মোটরসাইকেলে করে নাঈম খানের বাড়ির সামনে আসেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা সেখানে উপস্থিত হন। পরিবারের দাবি, ওই সময় নাঈম খান বাড়িতে ছিলেন না। চাকরির কারণে তিনি বরিশালে অবস্থান করছিলেন।
নাঈম খানের বাবা খান মনিরুজ্জামান দুলাল বলেন, ‘২৯ জুলাই আমি পাশের হাটে বাজার করতে যাওয়ার সময় পথে একটি মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়। সে আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি নাঈম খানের বাবা কি না। পরিচয় দেওয়ার পর সে জানায়, নাঈম তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখানে আসতে বলেছেন। আমি তখন তাকে বলি, আমার ছেলে বিয়ে করেছে কি না, সেটিও আমি জানি না। পরে ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বললে সে জানায়, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কয়েকদিন ফোনে কথা হয়েছিল মাত্র।’
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয়দের পরামর্শে ওই তরুণীকে নাঈমের বন্ধু হৃদয়ের বাড়িতে রাখা হয়। শুনেছি পরবর্তীতে পঞ্চকরন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম তালুকদারের বাড়িতে সপ্তাহখানেক অবস্থান করে পরবর্তীতে তিনি সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করেন নাঈমের বাবা।
নাঈমের বন্ধু হৃদয় বলেন, ‘মেয়েটি আমার বন্ধু নাঈমকে বিয়ের দাবি নিয়ে এসেছিল। আমরা বিষয়টি জানতে চাইলে আমি কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারিনি। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা আমাকে বলেন, তোমার যেহেতু স্ত্রী রয়েছে মেয়েটিকে নিরাপদে আমার বাড়িতে রাখতে। পরে শুনেছি, কয়েকদিন পর সে এলাকা থেকে চলে গেছে।’
খান আবদুল বাহার, খান কবির হোসেন,আয়েশা সিদ্দিকা জেবুসহ একাধিক এলাকাবাসীর দাবি, ২৯ জুলাই ওই তরুণী নাঈম খানের বাড়ির সামনে অবস্থান করলেও নাঈমকে সেখানে দেখা যায়নি। তাদের মতে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ভাড়াটিয়া মোটরসাইকেল চালক শাহাদাত হোসেন জানান, একটি মেয়ে গত ২৯ জুলাই মোড়েলগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড থেকে বিকাল আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে আমার মোটরসাইকেলে পাঁচগাও বাজারে যায়। তখন হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। আমাকে ভাড়ার টাকা দিলে আমি ফিরে আসি।
এদিকে নাঈম খান এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, অপহরণ, আটকে রাখা কিংবা অচেতন করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য, মেয়েটির সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় থাকলেও তিনি স্বেচ্ছায় তার বাড়িতে এসেছিলেন এবং অভিযোগগুলো মনগড়া।
পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, গুরুতর এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ