নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার,দাবি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলোকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে ‘ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে বাগেরহাট শহরের দশানীস্থ ধানসিড়ি হোটেলের হলরুমে এক সভায় ‘ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম গঠিত হয়। সভায় পরিবেশবাদী কর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি,উন্নয়নকর্মী,শিক্ষাবিদ,স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, যুব প্রতিনিধি,গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন। ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম এর খুলনা অঞ্চল’-এর কো-চেয়ার মিসেস রেহানা আক্তার সভায় সভাপতিত্বে ‘উদয়ন বাংলাদেশ’-এর নির্বাহী পরিচালক আসাদুজ্জামান সভায় সঞ্চালনা করেন। সভায় বাগেরহাট এবং বাংলাদেশের বৃহত্তর উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান ও তীব্র সমস্যাগুলোর ওপর আলোচনা করা হয়। লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ,ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন,দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা,নিরাপদ পানীয় জলের অভাব,পরিবেশের অবক্ষয়,বাস্তুচ্যুতি,জীবিকা হারানো এবং উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের অবনতি—এসব বিষয় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন,মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে ক্রমাগত হুমকির মুখে ফেলছে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দায়বদ্ধতা বা ভূমিকা নগণ্য হলেও,তারাই এর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতির শিকার হচ্ছে। এই গভীর অবিচার নিরসনে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম; যা তৃণমূলের কণ্ঠস্বরকে জোরালো করতে এবং জলবায়ু-ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে সরাসরি প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অর্থবহভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে সক্ষম। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সম্প্রদায়, সুশীল সমাজের সংগঠন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশবাদী কর্মী, যুব গোষ্ঠী এবং গণমাধ্যমের মধ্যে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু বিষয়ক অ্যাডভোকেসি বা প্রচারণাকে শক্তিশালী করতে এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক—সব পর্যায়ে জলবায়ু বিষয়ক নীতি ও কর্মসূচিতে সম্মুখসারির জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে এ ধরনের সহযোগিতা অপরিহার্য। বৈঠক চলাকালে ‘ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম বাগেরহাট জেলা’র কার্যক্রম পরিচালনা, সমন্বয় ও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সর্বসম্মতিক্রমে একটি জেলা আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। জেলা কমিটি আহ্বায়ক হলেন, অ্যাডভোকেট মেহেরুন্নেসা,যুগ্ম আহ্বায়কবৃন্দ-শাহিদা আক্তার. এস. এম. রাজ, সৈয়দ শওকত হোসেন ও সদস্যসচিব,মো.আমানুজ্জামানকোচি, যুগ্ম সদস্য সচিব সচিব, আজরিন আরাবি নওরিন, গোপীনাথ সাহা,কার্যনির্বাহী দল কার্যনির্বাহী দলের সদস্যবৃন্দ কামরুজ্জামান, এস.কে.এ.হাসিব, হেদায়েত হোসেন লিটন, মুখার্জি রবীন্দ্রনাথ, ইসরাত জাহান, মোল্লা আবদুর রব, নার্গিস আক্তার ইভা। কমিটির নেতৃবৃন্দ বাগেরহাটে জলবায়ু ন্যায়বিচার আন্দোলনকে শক্তিশালী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এই ফোরাম জলবায়ু-দুর্গত জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতার নথিপত্র তৈরি ও তাদের কণ্ঠস্বর জোরালো করার পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় ন্যায্য প্রবেশাধিকার,জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ, টেকসই জীবিকা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ও বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষার পক্ষে কাজ করবে। ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার ফোরাম বাগেরহাট জেলা’ গঠন উপকূলীয় বাংলাদেশের জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি শক্তিশালী ও সম্মিলিত কণ্ঠস্বর গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই ফোরামের লক্ষ্য হলো এটা নিশ্চিত করা যে, জলবায়ু সংকটের সম্মুখসারিতে বসবাসকারী মানুষদের যেন কেবল সুবিধাভোগী হিসেবে বিবেচনা না করা হয়; বরং তাদের অধিকার-মালিক এবং এমন সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়—যে সিদ্ধান্তগুলো তাদের জীবন, জীবিকা, সমাজ ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।