শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
২০ এপ্রিল থেকে বাগেরহাটে হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু  খানজাহান আলী মাজারের কুমির-কুকুর কান্ড : কুকুরটি জলাতঙ্ক সংক্রামন ছিল   বাগেরহাটের জেলা বিএনপির উদ্যোগে বর্ষবরণ ও আনন্দ র‌্যালী বাগেরহাটে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মানববন্ধন বাগেরহাটে বর্নাঢ্য আয়োজনে বাংলা বর্ষবরণ সংরক্ষিত আসনের শহিদ পরিবার থেকে প্রার্থী চায় সংগ্রামী নেত্রী শারমিন সুলতানা রুমা জ্বালানি সংকট: মোংলা বন্দরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা গণভোটের বাস্তবায়ন দাবিতে বাগেরহাটে ১১ দলের বিক্ষোভ, রাজপথে থাকার হুঁশিয়ারি বাগেরহাটে মাজার সংলগ্ন দিঘীর ঘাট থেকে কুকুরকে ধরে নিয়ে গেল কুমির, বাগেরহাটে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারি, পানি ও স্যালাইন নিয়ে জেলা ছাত্রদল

বাগেরহাট হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মীদের বেতন পাইয়ে দেওয়ার নামে হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ  

রিপোর্টার- / ৮০ পড়া হয়েছে
সময়- মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক. জেলার একমাত্র  ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে বাগেরহাট এ কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীরা আট মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অভিযোগ, বেতন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান কর্মীদের কাছ থেকে টাকা নেয়। এছাড়া বেতন দেওয়ার সময়ও জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আউটসোর্সিং কর্মীরা। হাসপাতালে পরিদর্শনে গেলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ দেন তারা।

বাগেরহাট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে ৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে ৬৬ জন আগের নিয়োগে এবং নতুন নিয়োগে ২৮ জন। তবে পুর্বের নিয়োগকৃত ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মী  ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে বেতন বন্ধ রয়েছে। প্রতিমাসে তাদের বেতন ১৬,৫০০ টাকা। গত ৮ মাস ধরে বেতন পাচ্ছে না।এতে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে  আউটসোর্সিং কর্মীদের। কর্মীদের অভিযোগ, হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান ঠিকাদারদের কাছ থেকে বেতন পাইয়ে দেওয়ার নামে বিভিন্ন সময়ে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা নেয়। কিন্তু তাদের বেতন না দিয়ে তালবাহান করতে থাকে। কখন্ও বেতনের টাকার কথা জানতে চাইলে চাকুরী থেকে অব্যাহতি ও নানা হুমকি ধামকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।এছাড়া এর আগে বেতন দেওয়ার সময়ে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা ঘুষ নেয়। হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ করেছেন আউটসোর্সিং কর্মীরা।

আউটসোর্সিং কর্মী আকলিমা বেগম বলেন,  আট মাস ধরে বেতন নেই। বাসা ভাড়া, বাজার—সবকিছু বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়।বেতনের কথা বললেই ঘুরানো হয়।  আরেক কর্মী বর্না বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কাজ করে টাকা না পেলে চলবো কীভাবে? আগে বেতন দিলে ৫০০-১০০০ টাকা করে কেটে নেওয়া হতো।

আউটসোর্সিং কর্মীদের সাধারণ সম্পাদক আলামিন বলেন, দ্রুত বেতন ছাড় করিয়ৈ আনার জন্য  আমাদের কাছ থেকে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান বিভিন্ন সময় দেড় লক্ষ টাকা নেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। খুব খারাপ অবস্থায় দিন পার করছি। আমাদের ৬৬ জন কর্মীদের দ্রুত বেতনের ব্যবস্থার দাবী জানান। এদিকে দ্রুত বেতন পরিশোধ ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা। তাদের ভাষায়, কাজ করে বেতন না পেলে আর কতদিন চলা যায়?।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। নিয়ম অনুযায়ীই সব কাজ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ জানান, আউটসোর্সিং কর্মীদের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ