নিজস্ব প্রতিবেদক. সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা ফাঁদে আটকে পরা রয়েল বেঙ্গল টাইগারটিকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। ‘ট্রেনকুইলাইজার গান’ দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করে বাঘটিকে ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর রবিবার ( ৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে খাঁচায় করে বাঘটিকে সুন্দরবনে থেকে বেরিয়ে নিয়ে আসাতে দেখা গেছে।বাঘটি বেশ দুর্বল হয়ে পড়ায় তাকে স্লাইন দেওয়া হচ্ছে। উৎসক জনতার ভিড়ের কারণে দ্রুত বাঘটিকে নিয়ে খুলনার দিকে রওনা হয়েছে বন বিভাগের কর্মীরা।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, বাঘটিকে খুলনায় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেস্কিউ সেন্টারে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে চিকিৎসা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এর আগে শনিবার দুপুরের পর বন বিভাগের কাছে খবর আসে লোকালয়কে সুন্দরবনকে আলাদা করা শরকির খাল দিয়ে আধা কিলোমিটার ভেরতে হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি বাঘ আটকে আছে। জায়গাটি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারি ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির অন্তরগত বনাঞ্চল।

সুন্দরবনের ওই এলাকাটি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বৈদ্ধমারী ও জয়মনি বাজারের মাঝামাঝি। বন বিভাগের কর্মীরা সেখানে গিয়ে বাঘটি আটকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলে উদ্ধারের জন্য ঢাকা থেকে ভেটেনারি সার্জনসহ বিশেষজ্ঞ দল আসে। উদ্ধার কাজে আসে খুলনা থেকে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্ম্কর্তারা।বাঘ দেখতে হাজারও মানুষের ভিড়এদিকে আটকে পড়া বাঘটি দেখতে শনিবার সন্ধ্যা থেকে ওই এলাকায় উৎসুক জনতা ভিড় করতে শুরু করে। তবে বন বিভাগ কাউকে বনে প্রবেশ করতে দেয়নি। সকালে উদ্ধার কাজ শুরু হবে এই খবরে দূর দূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষ সেখানে আসতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অনেকে বনের ভেতরে প্রবেশকরে। উদ্ধার অভিযান শুরুর আগেই কেউ কেউ সেখানে গেছে গিয়ে ছবি তুলে এবং ভিডিও করেছে নিয়ে আসছে।দুপুরের আগেই শরকির খাল পাড়ে কয়েক হাজার মানুষ জড় হন বাঘ দেখার জন্য।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা কার্যালয়ের মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও স্মার্ট ডাটা কো-অর্ডিনেটর মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, আনুমানিক আড়াইটার দিকে বাঘটিকে ট্রানকুইলাইজার দিয়ে অচেতন করা হয়। উদ্ধারের পর বাঘটিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে উৎসুক জনতার চাপে তাদের বের হতে প্রচন্ড বেগ পেতে হয়। মোংলা হয়ে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।