রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মোংলায় দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এলপিজি সিলিন্ডার রিফারবিশমেন্ট কেন্দ্র উদ্বোধন, নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ ওমেরার   সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারে জড়িত ৩ জন গ্রেফতার, বাগেরহাটের মোল্লাহাটে জুয়ার আসর বন্ধের সন্দেহে সাংবাদিক ফারুককে মারধর   দুই দশক পর তারেক রহমান বাগেরহাটে, নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস মোংলা বন্দরে পৌছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাগেরহাটে নতুন কুঁড়ি সিজন-২-এ নিবন্ধন ২১৮৬ প্রতিযোগী প্রধানমন্ত্রী আজ বাগেরহাটে আসছেন বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণীর কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনা মূল্যে বই বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর বাগেরহাট সফর ঘিরে উপকূলবাসীর নানা উন্নয়নমূলক প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাগেরহাটে বিএনপির আনন্দ মিছিল

মোংলায় দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এলপিজি সিলিন্ডার রিফারবিশমেন্ট কেন্দ্র উদ্বোধন, নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ ওমেরার  

রিপোর্টার- / ১০ পড়া হয়েছে
সময়- রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

আলী আকবর টুটুল. দেশে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে সিলিন্ডারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ। পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার থেকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে এবার মোংলায় দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এলপিজি সিলিন্ডার রিফারবিশমেন্ট ও রিকোয়ালিফিকেশন ফ্যাসিলিটি (আরএফএস) চালু করেছে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও ওমেরা সিলিন্ডার্স লিমিটেড। এই কেন্দ্রে শুধু ওমেরার নয়, দেশের অন্যান্য এলপিজি কোম্পানির সিলিন্ডারও পরীক্ষা ও সংস্কারের সুযোগ থাকবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ উদ্যোগ সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি পুরো এলপিজি শিল্পে মানসম্মত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

রোববার (৮নভেম্বর) বাগেরহাটের মোংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ স্থাপনার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক মোহাম্মদ মহসিন উদ্দিন।

এ সময় বিইআরসির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদ সারওয়ার (অব.), পরিচালক (বিদ্যুৎ) রেজাউল করিম খান, ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের সিইও তানজীম চৌধুরী, সিও মাথিন্দ্রা ডি জয়সাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও এলপিজি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের সিইও তানজীম চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১.৬ মিলিয়ন টন, যা আগে বার্ষিক হিসেবে ভাবা হতো, এখন তা মাসিক চাহিদায় পৌঁছেছে, এবং বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী এই চাহিদা ভবিষ্যতে ৩ মিলিয়ন টনে দ্বিগুণ হতে পারে। ২০১৫ সালে মোংলায় আমাদের কার্যক্রম শুরু করার সময় মাসিক বিক্রি ছিল প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টন, কখনও কখনও ২ থেকে ৩ হাজার টনেও নেমে আসত। আপনাদের সহযোগিতা ও নীতিগত সহায়তার ফলে আজ আমরা প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন এলপিজি বিক্রি করতে পারছি, কারণ যথাযথ নীতিগত সহায়তা ছাড়া এই ধরনের শিল্প বিকাশ সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পিআরসি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যে সহায়তা পেয়েছি, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এলপিজি বোট চালু করেছে, পাশাপাশি চারটি প্ল্যান্ট চালু করেছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় ভিএলজিসি এনে কোনো নিরাপত্তাজনিত দুর্ঘটনা ছাড়া টানা তিন বছর পরিচালনা করতে পেরেছি, যা অন্য সময় দেখা নানা সমস্যার প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য। ২০১৫ সালের দিকে দেশে অনেক এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে আসে, যার রিটেস্টের সময়সীমা ২০২৫ সাল থেকে শুরু হয়েছে। এই রিটেস্টিং বিষয়কে কেন্দ্র করে নানা নিরাপত্তা ঘটনা দেখা যাচ্ছে। তাই সব অপারেটরের প্রতি অনুরোধ, যেন তারা যথাযথভাবে সিলিন্ডার রিটেস্ট করে। আমরা চাই প্রত্যেকটি অপারেটর নিরাপত্তা ও আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনে চলুক। গ্রাহকের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এলপিজি আসলে খুবই নিরাপদ, কিন্তু রিটেস্টের সাথে সম্পর্কিত ত্রুটির কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়। বিভিন্ন কোম্পানির তথ্য ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনুরোধ করছি, নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখবেন এবং সব অপারেটর যেন যথাযথভাবে সিলিন্ডার রিটেস্ট করে সেটা নিশ্চিত করবেন। ইনশাআল্লাহ, সঠিকভাবে রিটেস্টিং করা গেলে আগামী দিনে বাংলাদেশের ৩ মিলিয়ন টন চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে। আমি বিশ্বাস করি, আগামী অন্তত ১০ বছর এই চাহিদা পূরণে আমরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারব।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক মোহাম্মদ মহসিন উদ্দিন বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করে, বাংলাদেশে আরও তো অনেক এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট আছে। আসলে ব্র্যান্ড ভ্যালু বানাতে হলে কমিটমেন্ট থাকতে হবে, আর সেই কমিটমেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিরাপত্তা। ওমেরার সিলিন্ডার নিয়ে গত ১০-১৫ বছরে কোনো বিস্ফোরণের ঘটনা শোনা যায়নি, এতে গ্রাহকের আস্থা বাড়ে। এখন রি-টেস্টিং সেন্টার করে প্রতিটি সিলিন্ডার বাজারে দেওয়ার আগে যাচাই করলে সেই আস্থা আরও শক্ত হবে। অন্য কিছু প্রতিষ্ঠানও তাদের সিলিন্ডার রি-কোয়ালিফিকেশনের জন্য আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট করেছে, এটা ভালো। কিন্তু আমার প্রত্যাশা, আপনারা নিজেদের দায়িত্বটা আরও বড় করে নেবেন। ২০১৫ থেকে এখন পর্যন্ত ওমেরা যে সব সিলিন্ডার বাজারজাত করেছে, আগামী এক বছরের মধ্যে সেগুলোর রি-টেস্টিং করে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করবেন। প্রথমে নিজেদের সিলিন্ডার, তারপর সক্ষমতা থাকলে অন্যদেরও করবেন। সিলিন্ডার নিয়ম মেনে রি-টেস্ট করাবেন। প্রতি পাঁচ বছর পর পর রি-টেস্টের বিধান আছে, সেটা সবাইকে মেনে চলতে হবে। দুর্ঘটনার পেছনে অনেক সময় গ্যাস লিকেজ থাকে— পোস্ট পাইপ, ভালভ, প্রেসার রিলিফ ভালভ থেকে সমস্যা হতে পারে। আপনারা রি-টেস্টিং সেন্টার করেছেন, মেশিনে ফিলিংও করছেন— ভালো উদ্যোগ। কিন্তু নিরাপত্তা প্ল্যান্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়েও দিতে হবে। নিজের ডিস্ট্রিবিউটরদের পোস্ট পাইপ, প্রেসার রিলিফ ভালভ, সিলিন্ডার হ্যান্ডলিং— এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিন। ডিস্ট্রিবিউটর বুঝলে খুচরা ডিলার বুঝবে, আর গ্রাহকও নিরাপদ থাকবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু বাজারজাত করা নয়, নিরাপদ এলপিজি নিশ্চিত করা। কারণ একটা দুর্ঘটনা শুধু একজন গ্রাহকের ক্ষতি নয়, পুরো শিল্পের উপর মানুষের আস্থা নষ্ট করে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ন্যাচারাল গ্যাস একাডেমিতে আসতে পেরে আমি খুশি। আমি নিজেকে খুব সাধারণ একজন মানুষ মনে করি। ইঞ্জিনিয়ারিং টার্মে এলপিজি একটু ভারী গ্যাস। এলপিজির সাথে বাতাস মিশিয়ে এটাকে একটু হালকা করা হয়, যাতে হিটিং ভ্যালু না কমে। এতে গ্যাসের পরিমাণ বাড়ে এবং খরচ কমে যায়। জাপানে প্রচুর এলপিজি ব্যবহার হয় এবং তারা আমদানি করে। এসই ইঞ্জি একাডেমিতে সম্ভবত বিউটেন বা প্রোপেনের মিশ্রণ ব্যবহার হয়, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউজের জন্য। এখন চাহিদা অনেক বেশি, অনেক লুকায়িত চাহিদাও আছে। গত সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ আমরা ৪১ শতাংশ ওমান থেকে এবং ২১ শতাংশ ইরাক থেকে আমদানি করতাম। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে ৮৫ শতাংশ এলপিজি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এই সোর্স পরিবর্তন বাজারে নতুন ডাইনামিক্স তৈরি করছে। ঘরোয়া ব্যবহারের আশি শতাংশ গ্যাস রান্নার কাজে যায়। ইন্ডাস্ট্রিতে যায় প্রায় বারো শতাংশ, আর কিছুটা অটো-গ্যাসে যায়। হোম ডেলিভারি এখন কিছুটা অনানুষ্ঠানিকভাবে চলছে, কিন্তু স্ট্যান্ডার্ড সিস্টেমে আনলে নিরাপত্তা ও সেবার মান বাড়বে।##


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ