শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
রেলের ক্যাটারিং সার্ভিসকর্মী হৃদয় অর্থসহ স্বর্ণালংকার নিয়ে লাপাত্তা  বাগেরহাটে ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল মিডিয়া লিটারেসি বিষয়ে কর্মশালা বাগেরহাটে ১৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক বাগেরহাটে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ হাজার ১ জন  অংশগ্রহণ ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধ: মোল্লাহাটে মরদেহের দাফন-সৎকার নিয়ে উত্তেজনা রামপালে খাস জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে রামপালে মানববন্ধন মল্লিকেরবেড়ে এন. আমিন হেলথ জোন অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি সেন্টারের উদ্বোধন ২০ এপ্রিল থেকে বাগেরহাটে হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু  খানজাহান আলী মাজারের কুমির-কুকুর কান্ড : কুকুরটি জলাতঙ্ক সংক্রামন ছিল   বাগেরহাটের জেলা বিএনপির উদ্যোগে বর্ষবরণ ও আনন্দ র‌্যালী

খুবির বিজয়’২৪ হল: ভোগান্তির দিন পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন স্বস্তির ঠিকানা

খুবি প্রতিনিধি- / ১৫৭ পড়া হয়েছে
সময়- শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫

খাবার পানি নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই, সকালের নাশতার জন্য দৌড়ঝাঁপ নেই, পড়াশোনার জন্য মিলছে বাড়তি রিডিং রুম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়’২৪ হল এখন শিক্ষার্থীদের কাছে যেন দ্বিতীয় বাড়ি। একসময় এই হল নিয়ে ছিল অসন্তোষ আর দীর্ঘশ্বাস, আর এখন সেই জায়গাটিই হয়ে উঠছে স্বস্তির নাম।

হল চালুর শুরু থেকেই পানির মান নিয়ে ছিল শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। দুর্গন্ধময়, হলুদ পানির কারণে বাইরে থেকে বোতলজাত পানি কিনে খেতেন সবাই। কিন্তু এখন বদলে গেছে চিত্র। দক্ষিণ ও উত্তর ব্লকের প্রতিটি তলায় ফিল্টারকৃত পানির ট্যাপ বসানো হয়েছে। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বললেন, “আগে পানি কিনে খেতে হতো, এখন হলেই বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাচ্ছে। এতে খরচও কমছে।”

কিছুদিন আগে পর্যন্ত হলে সকালের নাশতা ছিল বড় সমস্যা। মিল থাকলেও টাটকা খাবারের ক্যানটিন ছিল বন্ধ। এখন আবার চালু হয়েছে ক্যানটিন। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর রাতের খাবার, এমনকি বিকেলের নাশতাও মিলছে এখানে। ক্যানটিন কর্মী আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা চাই অল্পদামে ভালো খাবার দিতে। প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থী খাচ্ছেন আমাদের ক্যানটিনে।”

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়াতে নতুন একটি রিডিং রুম চালু করা হয়েছে। পুরোনো রিডিং রুমও সংস্কার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে যোগা রুম ও বিউটিফিকেশন রুম। সেখানে শরীরচর্চা ও মেডিটেশন করতে পারছেন শিক্ষার্থীরা।

হলের ভেতরের মতো বাইরেও এসেছে পরিবর্তন। আগে পুকুর ছিল কচুরিপানা ও আগাছায় ভরা। এখন সেটি পরিষ্কার করা হয়েছে। পুকুরপাড়ে তৈরি হচ্ছে হাঁটার পথ। বিকেলে অনেক শিক্ষার্থী সেখানে হাঁটেন, গল্প করেন। ফলে হলে তৈরি হয়েছে প্রাণবন্ত পরিবেশ।

বিজয়’২৪ হলের প্রোভোস্ট অধ্যাপক সাঈদা রেহানা বলেন, “শিক্ষার্থীরা আমার সন্তানের মতো। আমরা সব সময় চেষ্টা করি তাদের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে।” সহকারী প্রোভোস্ট রাবেয়া সুলতানা জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য এখন নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম, যেমন জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধ নিয়ে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম।

বছরখানেক আগেও যেই হলে ভোগান্তির শেষ ছিল না, সেই বিজয়’২৪ হল এখন শিক্ষার্থীদের কাছে এক টুকরো স্বপ্নবাগান। বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা, টাটকা খাবার, রিডিং রুম, যোগা রুম আর সুন্দর পরিবেশ সব মিলিয়ে হলটি এখন শুধু থাকার জায়গা নয়, হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের আশ্রয় আর স্বস্তির ঠিকানা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ