রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে দুই মোটরসাইকেল ও নসিমনের সাথে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন রেকর্ড ১৩২১ মেগাওয়াট উৎপাদন, যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে বাগেরহাটে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ ইউপি প্রশাসক বাগেরহাটে জমি দখলের চেষ্টা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ভিডিও নজরে আসতেই দুলিপা পারভীন ও হোসাইনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ডা. জুবাইদা রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৮ দিন বন্ধ থাকার পর দ্বিতীয় ইউনিট চালু ​মোড়েলগঞ্জে মাদকসহ ব্যবসায়ী আটক  ​ বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় ফিরেছে প্রান-প্রকৃতি, কমেছে অপরাধ রামপালে রামপালে বাঁধ ভেঙ্গে দুইশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, টেকসই বাঁধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

বাগেরহাটে আকস্মিক ঝড়ে শতাধিক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ

রিপোর্টার- / ১৯৯ পড়া হয়েছে
সময়- শনিবার, ২ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,

বাগেরহাটে আকস্মিক ঝড়ে শতাধিক বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনগত গভীর রাতে শহরের কয়েকটি এলাকায় এক মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শহরে শালতলা, সাধনার মোড়, পুরাতনকোর্ট মসজিদ, রেলরোড, প্রেসক্লাব, লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের তীব্রতায় ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টিনের ছাউনি উড়ে যায়। পাকা বাড়ির জানালার গ্লাস থেকে শুরু করে এসি আউটডোর, বিলবোর্ড, বৈদ্যুতিক মিটারসহ বহু গাছ উপড়ে পড়ে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।

ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুক্ষন পর, ১১টা ৪১ মিনিটে হঠাৎ একটা দমকা বাতাস আসে। প্রচন্ড সেই ঝড়ে মুহুর্তের মধ্যে ছাউনি গাছপালা থেকে শুরু করে পাকা স্থাপনা এবং দরজা জানালার গ্লাস পর্যন্ত ভাঙতে শুরু করে।

শালতলা এলাকার হেরিটেজ স্টে, সাধণার মোড় মসজিদ, কোট মসজিদ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরএসির আউটডোর উড়িয়ে ফেলে।

সাধারণ মোড়, রেলরোডে, শালতলা, লঞ্চঘাট ও কোর্ট মসজিদ এলাকায় সার, কীটনাশক, সেলুন রড, সিমেন্টের দোকান, কাপড়ের দোকান, ট্রেইলার, বেকারি, ফার্নিচার দোকানসহ  অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরের ছাউনি, টিনশেড, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিলবোর্ড উড়িয়ে নিয়ে গেছে। বেশ কয়েকটি বাসা বাড়ির ছাদের দেওয়াল ধ্বসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলা প্রশাসকের বাংলোও। বহু বৈদ্যুতিক মিটার এবং তার ছিড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সকলে এলাকা। রাত থেকে বৃষ্টির মধ্যে কাজ শুরু করে বিদ্যুৎ বিভাগ। তারা পর্যায়ক্রমে বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো শুক্রবার দুপুরের মধ্যে পুনরায় সচল করেছে। সকালেও শহরে সড়কে গাছ কেটে রাস্তার প্রতিবন্ধকতা সরাতে দেখা যায় ফায়ার সার্ভিসকে।

জেলা প্রশাসকের বাংলোর অভ্যন্তরে একটি ঘরের চালের টিন উড়ে গেছে। ঘরের পাশের আমগাছ ভেঙ্গে গেছে এবং একটি নারকেল গাছ উপড়ে পড়েছে।

শহর ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। মাঠে থাকা পাকা ধান নুয়ে পড়েছে অনেকের।

রেলডোর এলাকার তালুকদার মাহির অরন্য বলেন, সাড়ে ১১ টার পরে হঠাৎ করে তীব্র বাতাস শুরু হয়। গাছের একটা ডাল উড়ে এসে আমাদের জানালায় পড়লে জানালার গ্লাস ভেঙ্গে যায়। পাশে আমাদের কারখানার টিনের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। কারখানার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে।

সাবেক কমিশনার কাজী গোলাম মোস্তফা লাভলু বলেন, আমাদের দোকানপাট, ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। দোকানপাট উড়িয়ে নিয়ে গেছে। আসলে খুবই খারাপ অবস্থা। আমাদের সহযোগিতা না করলেতো চলতে পারবনা।

শালতলা এলাকার কাজী সিরাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আকস্মিক ঝড়ে ভবনের বেশ কিছু ফ্লাটের দরজা-জানালার কাঁচ ভেঙ্গে গেছে। আশপাশের সবগুলো বাড়ি ও দোকান ঘরের টিনের চালা উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এমন ভয়াবহতা আগে কখনো দেখিনি।

শুক্রবার সকালে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছে। পুরাতনকোর্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে বৈদ্যুতিক তারের উপর থাকা গাছ কেটে সড়ক পরিস্কার করেছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বাগেরহাটের স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গাছ কেটে সড়ক স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে গতকালের ঝড়ে কেউ হতাহত হয়নি।

এদিকে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি জেলা প্রশাসন।

বাগেরহাট জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মোঃ শাওন হোসেন অনিক বলেন, সকল উপজেলায় বলা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে। বেশি ক্ষয়ক্ষতি হলে, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ