শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে কৃষকদল নেতা হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল  সরিয়ে নেওয়া হলো খানজাহান আলী মাজার দিঘির একমাত্র কুমির জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে বাগেরহাটে যুবদলের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল  বাগেরহাটে মাজারের দীঘিতে  কুমির টেনে নেওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তা আজও দেশের মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক – প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম নাহিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের  কুরবানির আনন্দ পৌঁছে গেল ৩০০ পরিবারের ঘরে দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানে ভরসার নাম আব্দুল আলীম শেখ দুর্যোগে প্রস্তুতির বার্তা ছড়িয়ে ঝলমলিয়ায় কোডেকের সাংস্কৃতিক প্রচারণা কোডেক অগ্রযাত্রা প্রকল্পের ফ্রি গাইনি সেবা, চিকিৎসা পেলেন ৮৫ নারী রোগ বাগেরহাট সরকারী পিসি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলীর বিরুদ্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

অবকাঠামো ও চিকিৎসক সংকটে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র  : সেবা থেকে বঞ্চিত প্রসুতি মায়েরা

রিপোর্টার- / ৩৩৩ পড়া হয়েছে
সময়- শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক. অবকাঠামো  ও চিকিৎসক সংকটে বাগেরহাটের একমাত্র মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত দরিদ্র রোগিরা। পর্যাপ্ত নার্স, শিশু ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়।বাগেরহাট শহরের আলিয়া মাদ্রাসা সড়কে ১৯৮১ সালে প্রসূতি মা ও নবজাতকদের সুচিকিৎসার জন্য মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার ৩৯ বছরেও জেলাবাসীকে কাঙ্খিত সেবা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে দেখা যায় সকাল থেকেই প্রত্যন্ত গ্রাম ও দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে প্রসূতি মা ও শিশুরা।তবে চিকিৎসক সংকটের কারনে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিশু ও প্রসূতি মায়েদের।  দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগিরা জানেন না চিকিৎসক আছে কিনা। তারপরও একমাত্র ভরসা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে যেতে হয় অন্য হাসপাতাল ও ক্লিনিকে।সদর উপজেলার কাড়াপাড়া এলাকা থেকে রইসা বেগম নামের মধ্য বয়সী এক নারী শিশু সন্তানকে  নিয়ে মা ও শিশু কেন্দ্র এসে ডাক্তারের দেখা না পেয়ে ফিরে যায়।হাড়িখালি এলাকা থেকে কাকলি বেগম এসেছে তার সন্তানের টিকা কার্ড নেওয়ার জন্য কর্মকর্তা না থাকাই ফিরে যাচ্ছেন তিনিও।সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকা থেকে রুহুল আমিন স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন জানান আগে এখানে  ভালো ডাক্তার পাওয়া যেত চিকিৎসা সেবা ও পেতাম। এখন এখানে কোন ডাক্তার পাওয়া যায় না। সরকারি হাসপাতালে সে সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোগী ও সজনরা।

উপসহকারী মেডিকেল অফিসার নাজমা আক্তার জানান,  একদিকে ভবনটি জরাজীর্ন হওয়ায় ঝুকি নিয়ে আমরা যথাসাধ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসক ও জনবল সংকট সমাধান হলে প্রয়োজনীয় সেবা পাবে বলে জানান তিনি ।

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ২০ শয্যার হাসপাতালের জন্য মাত্র ৮টি পদ রয়েছে। পদগুলো হচ্ছে দুইজন চিকিৎসক (মেডিকেল অফিসার-ক্লিনিক এবং মেডিকেল অফিসার-এ্যানস্থেশিয়া), একজন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা, দুইজন সহকারি নার্সিং এ্যাটেন্ডেন্ট, একজন পিয়ন কাম চৌকিদার, একজন গাড়ি চালক, একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। এসব পদের মধ্যে চিকিৎক, ফিমেল মেডিকেল এ্যাটেনডেন্ট ও পরিকল্পনা পরিদর্শিকার পদগুলো শূন্য রয়েছে।

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ( অতিরিক্ত দায়িত্ব)  ডা. মাসুদ আল ইমরান  জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও সংযুক্ত কয়েকজনকে দিয়ে মোটামুটি সেবা চালিয়ে যাচ্ছি। কাঙ্খিত সেবা দিতে হলে ডক্টর ও নার্স পদায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাগেরহাট পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. বশিরুল বসির খান জানান, সারাদেশেই মা ও শিশু  কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক ও নার্স সংকট রয়েছে। বাগেরহাটে এর ব্যতিক্রম নয়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পূর্ণনির্মাণ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে সংস্কার করার জন্য একটি বরাদ্দ পাওয়া গেছে অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। তবে ডাক্তার  ও নার্স পদ শুন্য থাকায়  অন্যস্থান থেকে একজন মেডিকেল অফিসার ও নার্স সংযুক্ত করে সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ্যানেস্থাশিয়া (অজ্ঞান) ও  গাইনি চিকিৎসক না থাকায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আসা সিজারিয়ান রোগীদের সদর  হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ