বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
দুই দশক পর তারেক রহমান বাগেরহাটে, নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস মোংলা বন্দরে পৌছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাগেরহাটে নতুন কুঁড়ি সিজন-২-এ নিবন্ধন ২১৮৬ প্রতিযোগী প্রধানমন্ত্রী আজ বাগেরহাটে আসছেন বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণীর কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনা মূল্যে বই বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর বাগেরহাট সফর ঘিরে উপকূলবাসীর নানা উন্নয়নমূলক প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাগেরহাটে বিএনপির আনন্দ মিছিল নামে-বেনামে বরাদ্দ নয়, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে পিআইসি কমিটি; বাগেরহাটে জেলা পরিষদের শতাধিক প্রতিষ্ঠানে চেক বিতরণ বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর এসি প্রদান জনগণ গণভোটে হা-এর পক্ষে রায় দিয়েছে, বিএনপিকে এটা বাস্তবায়ন করতে হবে-ডা, শফিকুর রহমান

দুই দশক পর তারেক রহমান বাগেরহাটে, নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস

রিপোর্টার- / ২ পড়া হয়েছে
সময়- বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মাজার জিয়ারত ও সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি খুলনার পথে যাত্রা করেন।  প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সকাল থেকেই মাজার মোড়সহ আশপাশের সড়কের দুই পাশে অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। তাঁকে বহনকারী লাল-সবুজ বাসটি মাজার এলাকায় পৌঁছালে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। অনেকেই দুই হাত তুলে তাঁকে স্বাগত জানান। বাস থেকে হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।  দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীকে সামনে থেকে দেখতে পেরে আনন্দিত স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। তাঁদের অনেকের কাছে এই সফর ছিল বিশেষ আবেগের। কারণ, এর আগে ২০০৬ সালে বাগেরহাটের খানজাহান আলী কলেজ মাঠে একটি ছাত্রদলের তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নিতে এসেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও তাঁর বাগেরহাটে আগমন স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে।

এ সময় উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন তাঁদের জন্য আনন্দের ও স্মরণীয় মুহূর্ত। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাঁকে কাছ থেকে দেখতে পেরে তাঁরা উচ্ছ্বসিত। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাঁকে একনজর দেখার আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নসংক্রান্ত কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে ফকিরহাটের কাটাখালীতে সংক্ষিপ্ত পথসভা শেষে খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারে পৌঁছান এবং জিয়ারত করেন। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি খুলনার উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কন্টেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড এবং কার্গো হ্যান্ডেলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের কাজ সঠিক সময়ে সম্পন্ন হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হবে। শুধু এই অঞ্চল নয় সারাদেশেই নতুন অর্থনীতির দারুন হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রকল্পের সাফল্য শুধুমাত্র নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বন্দর সেবার মান কতটা উন্নত হল, পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কতটা হ্রাস পেল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটা বৃদ্ধি পেল এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল তার  প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মোংলা বন্দর দেশের দক্ষিনপশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক হাব। এ বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষিরা, যশোরসহ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সম্প্রসারণ করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, পঞ্চগড় থেকে মোংলা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সাপলাইচেইন এবং পন্য পরিবহন সম্প্রসারণের উদ্যোগ বর্তমান সরকার গ্রহন করতে চায়। একই সাথে খানজাহান আলী বিমান বন্দরের উন্নয়ন ও কাযকর ব্যবহার সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান, মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয় রয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রুপান্তর করার পরিকল্পনার একটি ধাপমাত্র। বন্দরের নাব্যতা নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল, প্রতিযোগিতামূলক বন্দর সেবা নিশ্চিত করা অবশ্যই অতি প্রয়োজনীয়। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষনীয় করে তুলে ধরা উপযুক্ত বানিজ্যিক ও পরিচালনাগত শর্তে ফার্স্ট কলিং পোর্ট হিসেবে রুপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।

ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি; নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান, এমপি; বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি , নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন ফারুক, এমপি ও সদস্যবৃন্দ, ইনভেষ্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন,  নৌপরিবহন সচিব মোঃ আতাউর রহমান খান, এনডিসি; চায়নার  Dai Hegen, Chairman, CRCC(Vice Minister Rank); Song Yang, Economic and Commercial Counselor, Embassy of People’s Republic of China in Bangladesh; Li Chongyang, Chairman, CCECC অতিথিগন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আমদানি-রপ্তানি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ। সভার সভাপতিত্ব করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান  রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ