বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মোল্লাহাটে গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ   বাগেরহাটে দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা,বোরো ধানের ক্ষতি বাগেরহাটে মহাসড়কের জমি অধিগ্রহনের চেক হস্তান্তর  ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার হলেন বাগেরহাটে দিনমজুর কুদ্দুস বাগেরহাটে ব্যবসায়ী পার্টনারকে কর্মচারি আখ্যা দিয়ে বের দেওয়া অভিযোগ রেলের ক্যাটারিং সার্ভিসকর্মী হৃদয় অর্থসহ স্বর্ণালংকার নিয়ে লাপাত্তা  বাগেরহাটে ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল মিডিয়া লিটারেসি বিষয়ে কর্মশালা বাগেরহাটে ১৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক বাগেরহাটে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ হাজার ১ জন  অংশগ্রহণ ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধ: মোল্লাহাটে মরদেহের দাফন-সৎকার নিয়ে উত্তেজনা

বাগেরহাটে গুলি করে যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলা, নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন

রিপোর্টার- / ৮১ পড়া হয়েছে
সময়- শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেক. বাগেরহাটের চিতলমারীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আমির হামজা (২৫)‘র দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রামের বাড়িতে প্রবেশ করে আমির হামজাকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আমির হামজার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

নিহত আমির হামজা শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। সে খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আমির হামজার বাবা রুহুল আমিন প্রায় ২০ বছর আগে স্ত্রী সন্তান নিয়ে পৈত্রিক ভিটা ত্যাগ করেন। আমির হামজা খুলনায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি ঢাকাতেও থাকতেন। শিবপুর গ্রামে রুহুল আমিনের বাবার কোন ঘরও নেই। ঈদে বাড়িতে এসে চাচার ঘরে উঠেছিলেন।

হত্যার শিকার আমির হামজা খুলনার একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত ছিলেন। তার নামে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এরমধ্যে খুলনার রুপসা এলাকার আব্দুল বাছেদ বিকুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি।

এদিকে এ ঘটনায় নিহত আমির হামজার মা মেহেরুননেসা নাছরিন বাদীয় হয়ে ৮জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামী করে মামলা করেছেন। আসামীরা বাগেরহাট ও খুলনার বাসিন্দা। মামলার স্বার্থে আসামীদের নাম উল্লেখ করেননি পুলিশ।

শুক্রবার সকালে নিহতের বাড়িতে সুনসান নিরবতা দেখা যায়। কয়েকজন প্রতিবেশী বাড়ির উঠোনে বসা থাকলেও, পরিবারের সদস্যরা ছিলেন ঘরের মধ্যে। পরিবারের পক্ষ থেকে তেমন কেউ কথা বলতে চায়নি গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে।

নিহতের ছোট ভাই আরমান মুন্সি বলেন, ঈদের দুইদিন আগে আমরা গ্রামের বাড়িতে আসছি। ঈদ করে আমাদের বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। যাওয়ার আগমুহুর্তে আমির হামজাসহ আমরা বাড়ির উঠোনে ছিলাম। হঠাৎ করে একজন গামছা বিক্রির ছদ্দবেশে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করেন। পরক্ষনেই হেলমেট ও মাক্স পরিহিত আরও কয়েকজন বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করেন। তাদের হাতে ওয়াকিটকি, পিস্তল এবং একজনের হাতে বড় শটগান ছিল। তখন আমার ভাই ঘরের মধ্যে চলে যায়, তারা আমার ভাইকে ধাওয়া করে। তার ব্যবহৃত ফোন দুটি নিয়ে নেয়। আমার ভাই দৌড়ে ছাদে চলে যায়। তারাও পিছন পিছন যায়। ছাদ থেকে লাফিয়ে রান্নাঘরের চালে এবং পরে পাশের চিত্রা নদীর মধ্যে পরে। সেখানেই তাকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। আমাকেও ধরার চেষ্টা করলে, আমি পালিয়ে যাই।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, বাড়ির চারপাশেই দু-জন তিনজনের দলে ভাগ হয়ে লোক দাড়ানো ছিল। খুব স্বল্প সময়ে হত্যা করে চলে যায় তারা।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম খান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে আমির হামজার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় ৮জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন তার মা। আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে এর আগে গেল ৭ মার্চ রাতে মোল্লাহাট উপজেলার কাহালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নূর ইসলাস (২৭) নামের এক যুবককে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এর ঠিক ৭দিন পর ১৪ মার্চ রাত সাড়ে দশটার দিকে মোল্লাহাট উপজেলা সদর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সোহাগ শেখ (৪২) নামের এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সোহাগ হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ