বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে যুবদল নেতা সুজন মোল্লার নামে অপপ্রচার,তদন্তে পুলিশ বাগেরহাটের শরনখোলায় দখলকৃত জমি উদ্ধার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগে : সংবাদ সম্মেলন  জমি বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্ত মূলক তথ্য -পুলিশ সুপার  বাগেরহাটে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভ্যন্তরীন সিন্ডিকেট চক্রের প্রভাবে ভোগান্তি চরমে  বাগেরহাটে জুলাই সনদ ও গনভোটের রায় বাস্তবায়নে ১১ দলের বিক্ষোভ  বাগেরহাটে পৃথক অভিযানে ৬ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক বাগেরহাটে আকস্মিক ঝড়ে শতাধিক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ বাগেরহাটে সরকার মার্কেটে আগুন, ৫ দোকান ভস্মিভূত, অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি  বাগেরহাটে বৃষ্টিতে আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট, কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

বাগেরহাটের শরনখোলায় দখলকৃত জমি উদ্ধার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগে : সংবাদ সম্মেলন 

রিপোর্টার- / ৩১ পড়া হয়েছে
সময়- বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটের শরণখোলায় দখলকৃত জমি উদ্ধার, মিথ্যা মামলা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তামান্না আক্তার নামের এক নারী। বৃহস্পতিবার (০৭ মে) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন। তামান্না আক্তার শরণখোলা উপজেলার রতিয়া রাজাপুর গ্রামের ইলিয়াস হোসেন হাওলাদারের স্ত্রী।

লিখিত বক্তব্যে তামান্না বলেন, গেল ৪ মে-সোমবার সকালে আমাদের জমি-জমা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয় প্রতিবেশী রবিন ঢালীর পরিবারের সাথে। এনিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ কতিপয় গনমাধ্যমে সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ক একটি সংবাদ বা ভিডিও চিত্র প্রচার করা হয়েছে। আসলে বিষয়টি পুরোপুরি ভিত্তিহীন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের সমস্যাকে ধর্মীয় রুপ দিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছেন কিছু অসাধু মানুষ। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তামান্না আরও বলেন, তার শ্বশুর সোবহান হাওলাদারসহ তারা চার ভাই ১৯৮৯ সালে নির্মলেন্দু হালদারের কাছ থেকে ১৪ শতক জমি কবলামূলে ক্রয় করেন। একই সালে নিলকান্ত ও রতিকান্তের কাছ থেকে আরও ১৪ শতক জমি ক্রয় করা হয়। এরপর থেকে উক্ত জমিতে আমার শ্বশুর সোবহান হাওলাদার পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। কবলামূলে রাজাপুর মৌজার বিআরএস ২২১৭ দাগের ২৮ শতক জমি আমার শ্বশুরের নামে রেকর্ড রয়েছে।  কিন্তু জমিক্রয়ের ১০ বছর পর ১৯৯৯ সালে নির্মলেন্দু হালদারের ভাই গোপাল ও দেপালের দুই সন্তান গোকুল ও দুলালের কাছ থেকে ৩৩ শতক জমি রবিন ঢালী ক্রয় করেন ও ভোগ দখল শুরু করেন। যার বিআরএস দাগ নং-২২১৯।

কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে রবিন ঢালীর মামা স্থানীয় ইউপি সদস্য মৃনাল বাবুর সহায়তায় জোরপূর্বক আমার শ্বশুরের কবলাকৃত ২৮ শতক জমি দখল করে নেয় তারা। দখলের জন্য ২২১৭ দাগের জমিতে থাকা আমার শ্বশুর দিনমজুর সোবহান হাওলাদারের বসত ঘর ভাংচুর করে এবং আমার শ্বশুরকে মারধর করে। স্থানীয় বিভিন্ন লোকের কাছে এই অন্যায়ের বিচার চাইলেও, মৃনাল বাবু আওয়ামী লীগ সরকারের কাছের লোক হওয়ায় কেউ এ বিষয়ে কোন কথা বলেনি। নিরুপায় হয়ে আমার শ্বশুর সোবহান হাওলাদার পাশের জমিতে আশ্রয় নেয়।  রবিন ঢালী জমি দখলের যুক্তি হিসেবে নিজের দলীলে ২২১৭ দাগ উল্লেখ থাকায় আমার কবলাকৃত জমি তিনি দাবি করেন। কিন্তু আমাদের জমি এবং তার কবলাকৃত জমির বিআরএস দাগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে তার কবলাকৃত ৩৩ শতক জমি ২২১৯ দাগে ভোগ দখল করছেন। আর অন্যায়ভাবে ২২১৭ দাগে আমাদের ক্রয়কৃত ২৮ শতক জমি জবর দখল করে আসছেন।

এ নিয়ে একাধিকবার শালীস-বৈঠক হলেও, কোন সুরাহা হয়নি। বরং রবিন ঢালী বিভিন্ন সময় আমার শ্বশুর ও তার ছেলেদের হুমকি-ধামকী দিয়েছেন। জীবনের নিরাপত্তার জন্য আমার শ্বশুর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাগেরহাট আদালতে একটি ৭ ধারা মামলাও করেছিলেন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে।  এবার ৪’মের ঘটনায় আসা যাক। আমরা জানতে পারি যে আমাদের জমিতে থাকা রবিন ঢালির পুরাতন জরাজীর্ণ ঘর ভেঙ্গে নতুন ঘর তৈরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমার শ্বশুর সোবহান হাওলাদার ও তার স্বজনরা রবিন ঢালির লোকজনকে বাঁধা দিতে চায়। তখন রবিন ঢালির মা ও স্ত্রী নিজেদের ঘরে আগুন দিয়ে আমাদের লোকজনকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে তাদের সাথে আমার শ্বশুরের বাকবিতন্ডা হয়। এবং উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে রবিন ঢালির মা সামান্য আহত হয়, আমার দেবর মিরাজ হাওলাদার ও আত্মীয় রাসেল আহত হয়। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোকজন রবিন ঢালির পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে এই বিষয়টিকে সংখ্যালঘু নির্যাতন বলে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়।

এ ঘটনায় শরণখোলা থানায় ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫-৩০জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন রবিন ঢালি।পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তারও করেছেন। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে অধিকাংশই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।  তামান্না আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে রবিন ঢালি ও তার মামাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছি।

আপনাদের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কাছে বিনিত অনুরোধ উক্ত ঘটনা সঠিক তদন্তপূর্বক উপযুক্ত বিচার করবেন। আর আমার শ্বশুর যাতে তার কবলাকৃত জমি কোন ঝামেলা ছাড়া শান্তিতে ভোগ দখল করতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহন এবং হয়রানি মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করার দাবি জানাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ