নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টা ও কমিটির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব কুমার দাসকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের পাশে বিকেবিবি সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরে জমির দখলেকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (০৩ এপিল) সকালে এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাজার ব্যবসায়ী, বিএনপি-জামাত নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। সমাবেশে স্থানীয় বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল জব্বার মোল্লা, স্থানীয় বলভদ্রপুর বাজার কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান দিদার, জামায়াত নেতা ডা. আব্দুল হাই, মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব কুমার দাস, এ্যাডভোকেট আব্দুল আলীসহ অনেক নেতৃবৃন্দ।
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব কুমার দাস বলেন বলেন, পাঁচ দিন আগে ফেরদৌস শিকদারের নেতৃত্বে ৫-৬ জন রাস্তার পাশে জমি মন্দিরের জমি দখল করে কাউন্টার নির্মাণের জন্য ঘর তৈীরর নির্মান সামগ্রী নিয়ে আসে। এসময় বাধা দিলে এবং কমিটির সদস্যকে জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কথা জানালে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং গালিগালাজ করে এলাকা ত্যাগ করে। পরের দিন গভীর রাতে বাড়িতে গিয়ে এবং জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে আমি বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে ফেরদৌস শিকদারসহ ৫-৬ জন আমাকে মারধর করে এবং চোখে আঘাত পাই। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দ এবং বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি মিছিল ও সমাবেশ করে। আমার উপরে হামলার বিচার চাই।
বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল জব্বার মোল্লা বলেন, ফেরদৌস শিকদার দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত এবং এলাকায় একটি বাহিনী তৈরি করে বিভিন্ন লোকজনকে হুমকি দিয়ে আসছে। এমনকি মন্দিরের জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠে এবং এটাকে সাম্প্রদায়িক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এই ধরনের কর্মকান্ড করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বলভদ্রপুর বাজার কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান দিদার বলেন, বিএনপি দলের পরিচয় দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করেছিল সে একটা উশৃংখল ছেলে । কোন দলের সাথে সম্পৃক্ত নয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করাই তার কাজ। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় হিন্দু , মুসলিম শান্তিপূর্ণ বসবাস করছি । সন্ত্রসী ফেরদৌস শিকদারকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি । যাতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে এই এলাকায়।
মন্দির কমিটির সভাপতি উৎপল কুমার দাস বলেন, এই মন্দিরে বাধাল, বক্তারকাঠি, বলভদ্রপুর, বিষখালি, কাঠি পাড়া এই পাঁটি গ্রামের মানুষ পূজা আর্চনা করে। কিন্তু ফেরদাউস ও তার লোকজন যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তাতে সবার মনে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমরা ফেরদাউস ও তার সাথে যারা চিল সবার বিচার চাই। সেই সাথে যাতে কেউ কখনও মন্দিরের জমি দখল করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
তবে ফেরদাউস শিকদার বলেন, বাধাল বাজারের ব্যবসায়ী মনিরুল শিকদারের সমঝোতায় ওই জায়গাটি মাসে ৫শ টাকা চুক্তিতে ভাড়া নিয়েছিলাম। কিন্তু পরে মন্দিরের লোকজন আমাদেরকে কাউন্টার করতে দিতে অস্বীকার করে। মূলত মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদকের সাথে আমার ব্যক্তিগত ঝামেলা রয়েছে। মন্দিরের জমি দখল সংক্রান্ত কোন বিষয় নেই।
মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. মাহামুদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পর দুপুরে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।