নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটে সকাল থেকে দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাতে শহরের নিচু এলাকা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিম্নআয়ের মানুষ ও বিভিন্ন কর্মজীবীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে আকস্মিক দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও স্বল্পস্থায়ী ভারী বৃষ্টিপাতে বাগেরহাট পৌরসভার অলি গলি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জনজীবনেও নেমে আসে ভোগান্তি। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেপানি উঠায় ভোগান্তি চরমে।
মো.রিয়াজুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক বলেন, আমাদের মাদ্রাসায় ১০০ জনের বেশি ছাত্র আছে। বর্ষার এই মৌসুমে এই মাদ্রাসা প্রায় সময়ই প্লাবিত হয়ে যায়।গত কয়েক বছর ধরে আমরা এই সমস্যার মধ্যে আছি।ড্রেনের পানি নির্কাষান ব্যাবস্থা ভালো না। এছাড়া আশে পাশে সব জায়গা উচু মাদ্রাসার জায়গা নিচে।এই জন্য বাচ্চাদের থাকার জায়গা ঘুমানোর জায়গা বার বার প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে।আমরা এই সমস্যার সমাধান চাই। মাওলানা ফাইজুল ইসলাম বলেন,এই মাদ্রাসা ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত কিন্তু এই ভোগান্তিতে আমরা দীর্ঘদিন আছি।এখানে ড্রেনের কাজ হয়েছে কিন্তু ড্রেন টা সচল না ড্রেনের মুখে অবৈধ স্থাপনা থাকায় পানি চলাচল করতে পারে না।আজকে না পূর্বের থেকেই আমাদের এরকম অবস্থা চলতেছে।আজকে অনেক বেশি হয়ে গেছে।এর ফলে আমাদের অনেক সমস্যা হয়ে গেছে। আমরা বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে কোথায় যাবো বুঝতেছি না।প্রশাসনের কাছে দাবি আমাদের এই বাচ্চাদের দিকে যেন একটু দৃষ্টি দেন।

এদিকে বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ হারুন অর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান,আকস্মিক দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও স্বল্পস্থায়ী ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নদীপথে চলাচলকারী নৌযানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্তক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও বন্দরে পণ্য ওঠা-নামার কাজ আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, দুপুর ২ টা পর্যন্ত ৪২মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে সকাল থেকে বাগেরহাটে সকাল থেকে দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এরফলে বাগেরহাট জেলা সদরসহ নিম্নাঞ্চলে জলাবন্ধতা দেখা দিয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। এতে দূর্ভোগে পড়েছে সাধারন মানুষ।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে ৬৮ হাজার হেক্টর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪ হাজার হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতে ৮ থেকে ১০ ভাগ ধান আক্রান্ত হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে।