বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে কৃষকদল নেতা হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল  সরিয়ে নেওয়া হলো খানজাহান আলী মাজার দিঘির একমাত্র কুমির জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে বাগেরহাটে যুবদলের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল  বাগেরহাটে মাজারের দীঘিতে  কুমির টেনে নেওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তা আজও দেশের মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক – প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম নাহিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের  কুরবানির আনন্দ পৌঁছে গেল ৩০০ পরিবারের ঘরে দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানে ভরসার নাম আব্দুল আলীম শেখ দুর্যোগে প্রস্তুতির বার্তা ছড়িয়ে ঝলমলিয়ায় কোডেকের সাংস্কৃতিক প্রচারণা কোডেক অগ্রযাত্রা প্রকল্পের ফ্রি গাইনি সেবা, চিকিৎসা পেলেন ৮৫ নারী রোগ বাগেরহাট সরকারী পিসি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলীর বিরুদ্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

সড়ক দূর্ঘটনায় বর-কনেসহ নিহত ১৪ : মোংলায় একই কবরস্থানে শায়িত হলেন পরিবারের ৯ সদস্য   

রিপোর্টার- / ১১৬ পড়া হয়েছে
সময়- শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার জুমআবাদ মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায়, জলবায়ু, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, নিহতদের স্বজনসহ হাজারো মানুষ অংশ নেয়। কানায় কানায় ভরে উঠে উপজেলা পরিষদ মাঠ। জানাজা নামাজে ইমামতি করেন মোংলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ রুহুল আমিন। পরে মোংলা কবর স্থানে পাশাপাশি ৯ জনকে দাফন করা হয়।সড়ক দূর্ঘটনায় ৩ পরিবারের চলছে শোকের মাতম।

এদিকে একই দূর্ঘটনায় নিহত কনে পক্ষের চারজনের জানাজা কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে এবং মাইক্রোচালকের জানাজা রামপালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজার আগ মুহূর্তে পরিবারের নিহত সদস্যদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন স্ত্রী সন্তান, বাবা ভাই ও বোন হারানো আশরাফুল আলম জনি। জনির আকুতিতে ভারি হয়ে ওঠে আকাশ বাতাস। জনি বলেন, আমি বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান, বোন ভাগ্নে সবই হারিয়েছি। আমার বাবা রাজনীতি করতেন, ভাইয়েরা ব্যবসা করতেন, কারও যদি কোন দেনা পাওনা থাকে জানাবেন, আমি পরিশোধ করব। আর সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করেন স্বজনহারা জনি।

জানাজা পূর্ব বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি হৃদয়বিদারক দূর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তিনিসহ নিহত সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, যে বাড়িতে আজ আনন্দের গল্গু ধারা থাকার কথা, সেখানে আজ বিশাদের কালো ছায়া। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মাসহড়কের বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায়  নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়। বর-কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়। নিহতরা হলেন বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তাঁর বাবা আব্দুর রাজ্জাক, বরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তাঁর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ, আরফা, ইরাম। কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম। মাইক্রোবাস চালক নাইমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামের। শুক্রবার জুমআর আগে গ্রামের বাড়িতে তার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বর ছাব্বিরের মোংলা শহরে মোবাইলের দোকান ছিল। কনে মিতু কয়রার নাকসা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ