নিজস্ব প্রতিবেদক. নৌবাহিনীর সাবেক চাকুরিচ্যুত কর্মকর্তা ফারজানা তন্নীর বিরুদ্ধে নির্যাতন, স্বর্ণালঙ্কার ও জমির দলিল ছিনতাই এবং ঘরবাড়ি দখলের গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার সৎ বোন ফারহানা তাবাসসুম।
রবিবার (২১ জুন) সকালে বাগেরহাট ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই লিখিত অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে রামপাল উপজেলার বড় সন্ন্যাসী গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত এ্যাডভোকেট আবুল হোসেনের কন্যা ফারহানা তাবাসসুম জানান, ২০২৪ সালের ২৩ নভেম্বর তার পিতার মৃত্যুর পরদিনই সৎ বোন ফারজানা তন্নী বহিরাগত লোকবল নিয়ে ফারহানা ও তার মাকে বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর ঘরের তালাবদ্ধ করে তাদের স্বর্ণালঙ্কার ও জমির মূল্যবান দলিলপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
কোটি টাকার সম্পত্তি গ্রাস, খুলনা শহরের ৫০ নং হাজী মহসিন রোডের তিন শতক জায়গার ওপর নির্মিত একটি তিনতলা বাড়ি (যার বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা) থেকে তাদের বঞ্চিত করতেই মূলত এই গ্রামীণ সম্পত্তি ও দলিলপত্র জোরপূর্বক দখল করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে তারা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিরোধের জেরে ২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি তন্নীর নেতৃত্বে একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী ফারহানা ও তার মায়ের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ফারহানার মায়ের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। পরবর্তীতে থানা পুলিশের সামনেও তাদের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হলে তারা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: সি,আর-১৯৯/২৫)।
সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক রঙের চেষ্টা ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সম্পত্তি দখলের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি (১৬ ও ১৭ জুন, ২০২৬) স্থানীয় মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ সাজাহার ইসলাম সাজু এবং ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ তাইজুল হাওলাদারের দোকানেও হামলা ও অবৈধ উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হয়, যা পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও নারীরা প্রতিরোধ করেন।
”বর্তমানে আমরা এতিম ও অসহায় পরিবারটি জীবন নাশের হুমকি ও চরম আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। তন্নী ও তার সহযোগীরা পারিবারিক সমস্যাকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।”স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলামকে নিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফারজানা তন্নী ও তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের কবল থেকে মুক্তি, নিজেদের ন্যায্য অধিকার উদ্ধার এবং নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।