শরণখোলা প্রতিনিধি.বাগেরহাটের শরণখোলায় জোরপূর্বক জমি দখলে নিতে নিরিহ কৃষক ও জমির মালিকদের হয়রানি অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।
নিজেদের পৈত্রিক জমি শান্তিতে ভোগ দখলের নিশ্চয়তা ও হয়রানির বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার উত্তর রাজাপুর এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, মোঃ খলিলুর রহমান, আব্দুল জলিল, সালে আহম্মেদ গাজি, ইদ্রিস হাওলাদার, ইসমাইল হাওলাদার, চান মিয়া হাওলাদার, বাচ্চু গাজি, খোকন হাওলাদার, আবদুল আজিজ তালুকদার, ইউনুস হাওলাদার, আলাম তালুকদার, সিদ্দিকুর রহমান বাবুল মাস্টার, সুলতান মাস্টার, রেকসোনা বেগম, রজিনা বেগম, সুরমা খাতুন, মোসাঃ সেপালি, হাসিনা বেগম, রুমা খাতুন, জহানারা বেগম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বংশ পরম্পরায় প্রায় ৯০ বছর ধরে ভোগদখলীয় জমিতে চাষাবাদ চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী সাইদুর রহমান, আবুল হোসেন আকনসহ তাদের লোকজন আমাদের ওই জমি দখলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছি। এমনকি আমাদের জমিতে লাগানোর ধান কেটে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। জমির দখল ছেড়ে না দিলে মিথ্যা মামলা অফ পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি আমাদের সন্তানদের হত্যার হুমকি দিয়েছেন তারা। হুমকির মুখে চরম অনিরাপত্তায় রয়েছেন নিরীহ এই জমির মালিকরা।

মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, ১৯৩৩ সালে সরকারের কাছ থেকে নিলামে এই জমি ক্রয় করেন ওয়াজেদ আলী হাওলাদার, তোরাব আলী হাওলাদার ও কাজেম আলীর জমি। এরপর কাজেম আলীর ২৬ বিঘা অংশ অহেদ আলী ও তাদের বংশের লোকজন ক্রয় করেন। তখন থেকেই তাদের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু ১৯৪৫ সালে সাইদুর রহমান ও আবুল হোসেন আকন নিলাম রোধের জন্য একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি মামলা করেন। জমি সংক্রান্ত প্রতিটি মামলায় খলিলুর রহমান ও তাদের লোকজনের পক্ষে আদালত রায় দিয়েছে। এরপরেও আবুল কাশেম ও তাদের লোকজন থেমে নাই, ২০১১ সালে এই খলিলুর রহমান ও তাদের লোকজনের নামে একটি ষড়যন্ত্রমূলক গুমের মামলা দেয় আবুল কাশেমের লোকজন। গুমের মামলাটিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এতসব করেও যখন জমি দখলে নিতে পারেনি আবুল কাশেম ও তার লোকজন, এখন সরকার পরিবর্তনের পরে নব্য বিএনপি নেতাদের কাজে লাগিয়ে প্রকৃত জমির মালিকদের হয়রানি করে বেড়াচ্ছেন। এমনকি থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েও হয়রানি করছেন। এই অবস্থায় নির্বিঘ্নে জমি দখলের নিশ্চয়তা চান এই কৃষকরা। আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার নামের আরেক কৃষক বলেন,
বিগত সরকার সময়ে ভূমি জরিপেও আমাদের মালিকানা নিশ্চিত হয়েছে। তারপরও আবুল কাশেম আকন, অহিদুজ্জামানসহ কয়েকজন নতুন করে হয়রানি করছে। গত সপ্তাহেও ধান কাটতে গেলে আমাদের বাধা দেওয়া হয় এবং নব্য বিএনপির কয়েকজন চাঁদা দাবি করে।
চান মিয়া হাওলাদার বলেন,তারা সবাই বিএনপি করেন, আগের সরকারের আমলে তারা নির্যাতিত হয়েছেন। আর এখন নিজেদের দলের নতুন নেতৃত্বের কাছ থেকেও নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছেন। কোথায় গেলে সঠিক বিচার পাব বলে আক্ষেপ করেন এই কৃষক।।