নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাটের পেট্রোল স্টেশনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট রয়েছে।বিভিন্ন পাম্পঘুরে প্রয়োজনীয় তেল না পেয়ে বিরম্বনায় পড়তে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। আর যেসব পাম্পে স্বল্প পরিমান তেল দেওয়া হচ্ছে সেসব পাম্পেও যানবাহন চালকদের দীর্ঘ লাইন। আর দীর্ঘক্ষন লাইনে দাড়িয়ে বিরম্বনায় পড়তে হচ্ছে যানবাহন চালক ও জ্বালানি তেল নিতে আসা গ্রাহকদের।
রবিবার দুপুরে বাগেরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র খানজাহান আলী পেট্রোল স্টেশনে দেখা যায় ৫০০ মিটার জুড়ে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘলাইন। সূর্যের আলো ফোটার আগে তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়িয়েছেন তারা। আর তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ট্যা্গ অফিসার ও পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। আর তীব্র তাবদাহে দীর্ঘক্ষন লাইনে দাড়ানো মোটরযান চালকদের স্বস্তি দিতে ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছে জেলা ছাত্রদল।
জেলা ছাত্রদল নেতা শেখ আল মামুনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের অন্তত ১০জন মোটরসাইকেল চালকদের সুপেয় পানি ও স্যালাইন বিতরণ করছেন। তপ্ত রোদে স্যালাইন মিশ্রিত পানি পেয়ে খুশি যানবাহন চালকরা।
আসিফ নামের এক চালক বলেন, অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, গরমে খুব কষ্ট হয়। আজকে ছাত্রদল পানি ও স্যালাইন দিয়েছে এতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। এমন উদ্যোগ আরও হওয়া দরকার।আমি মনে করি এটা ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক দিক।
আব্দুলাহ শেখ নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনও তেল পাইনি। কাজের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। গরমে শরীরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তবে আজকে পানি আর স্যালাইন দেওয়ায় একটু স্বস্তি লাগছে। এমন সহযোগিতা সত্যিই অনেক উপকারে আসছে।
আশিকুর রহমান নামের আরেক বাইক চালক বলেন,আমি প্রতিদিন সকাল ৬ টা থেকে লাইনে দাড়ায় তেল পেতে পেতে ১০ টা বাজে।তারপর আবার আমি ভাড়ায় লোক টানি।কিন্তু ৩০০ টাকার তেল প্রতিদিন শেষ হয়ে যায়। প্রতিদিন না খেয়ে এসে দাড়ায়। প্রচন্ড গরমে ক্লান্ত হয়ে যায়। আজ ছাত্রদল পানি ও স্যালাইন দিচ্ছে এতে আমাদের ক্লান্ত দূর হচ্ছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নেতা শেখ আল মামুন বলেন,পজেটিভ রাজনীতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূলনীতি। এই স্লোগানকে সামনে রেখে জেলা ছাত্রদল মানবিক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদলকে জনগণের সাথে থাকতে বলেছেন এজন্য ছাত্রদল জনগণের পাশে সবসময় রয়েছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকেরা অনেক কষ্টে আছেন। তারা এই গরমে তিন চার ঘন্টা দাড়িয়ে জ্বালানি তেল নিচ্ছেন।এতে অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।অনেকে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে।তাই মোটরসাইকেল চালকদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করার জন্য আমাদের এই ছোট্ট উদ্যোগ। আমরা মানুষের পাশে থাকতে চাই।
মামুন আরও বলেন, অনেকেই আছেন আগে ২০০ টাকার তেল নিতো তারা এখন ১০০০ টাকার তেল নেই।এভাবে বিভিন্ন সিন্ডিকেট তেল মজুত করে। তারা যাতে তেল মজুত না করে আমরা সেই কথা ই তাদের বুঝাচ্ছি।
এই পাম্পের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার বিএডিসির সহকারি পরিচালক শেখ মোঃ ফারুক আহমেদ বলেন, ডিপো থেকে এই পাম্পে আজকে ৩ হাজার লিটার অকটেন, ৪ হাজার ৫শ লিটার পেট্রোল ও ৫ হাজার লিটার ডিজেল দিয়েছে। আমরা স্বচ্ছতার সাথে চালকদের তেল দেওয়ার চেষ্টা করছি। বেশিরভাগ চালকদের ৫শ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করছেন এবং মোটর বাইক চালকরাও লাইনে দাড়িয়ে তেল নিচ্ছেন।
বাগেরহাট জেলায় ২৩টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। প্রতিটি পাম্পে চাহিদার তুলনায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ করছে ডিপো থেকে। যার ফলে বেশিরভাগ পাম্পগুলোতে তেল সংকট রয়েছে।তবে তেল সংকট নিরসনে পাম্প কর্তৃপক্ষ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। এসবের মধ্যে স্বল্প পরিমান তেল সরবরাহ করা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের সামনে তেল সরবরাহ করা। এভাবে তেল সরবরাহ হলে এবং যানবাহন চালকরা সচেতন হলে সংকট নিরসন হবে বলে জানান এই পাম্প মালিক।
খানজাহান আলী পেট্রোল স্টেশনের অন্যতম স্বত্তাধিকারী সরদার মোজাহার আলী বলেন, সংকট শুরু হওয়ার পরে প্রথম দিকে আমরা ২০০ টাকার পেট্রোল-অকটেন দিচ্ছিলাম। পরে ৫শত টাকার করে দেওয়া শুরু করেছি। তেল সরবরাহ বেশ স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এভাবে ডিপো থেকে থেল পেলে সংকট নিরসন হবে বলে জানান এই ব্যবসায়ী।