নিজস্ব প্রতিবেদক. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই দেশ স্বাধীন হয়েছে; অথচ ৫৫ বছর পরও সেই একই বৈষম্যের কারণে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি শ্রমিকদের অবদান ও আত্মত্যাগ কোনো অংশে কম ছিল না। অথচ আজ পর্যন্ত শ্রমিকদের সেই ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা ঘরে ফিরে যাবে না। রোববার (২ আগস্ট) সকালে খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের অবদান, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, সকল শ্রেণী পেশার শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি প্রদান, বন্ধকৃত সকল কলকারখানা চালু এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
নগরীর খালিশপুর বিআইডিসি রোডস্থ শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুজ্জামান এর পরিচালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক সাবেক কাউন্সিলর মাস্টার শফিকুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান সম্পাদক খান গোলাম রসুল, দৌলতপুর থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুশাররফ হুসাইন আনসারী, আড়ংঘাটা থানা আমীর মনোয়ার আনসারী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগরীর সাবেক সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন। এ সময় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা মহানগরীর সহ-সভাপতি এস এম মাহফুজুর রহমান, কাজী মাহফুজুর রহমান, খালিশপুর থানা সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, বিআরইএল সভাপতি সাইফুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান জুনায়েদ, খুলনা সদর থানা সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন, মুরাদ সোহাগ, সোনাডাঙ্গা থানা সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, আড়ংঘাটা থানা সভাপতি শাহিনুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন তপু, হরিণটানা থানা সভাপতি হেলাল উদ্দিন, বিআরইএল সভাপতি সাইফুল ইসলাম, পরিবহন শাখার সভাপতি কামাল হোসেন, খুলনা সদর থানা ফার্ণিচার শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আলী হায়দার নিরু, শ্রমিকনেতা মুজাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, কামরুল ইসলাম, মাসুম, আবদুল কাদের, দবির উদ্দিন প্রমুখ। সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
মহানগরী আমীর আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শতাধিক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী শ্রমিকের সংখ্যা কয়েক হাজার। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রত্যাশা, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে শ্রমিকদের এ আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়। তাদের অধিকার যেন নিশ্চিত করা হয়। ন্যায্য মজুরিসহ যেকোনো দাবি আদায়ে কোনো শ্রমিককে যেন রাস্তায় নামতে না হয়। শ্রমিকরা যেন স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন। নারী শ্রমিকদের জন্য পরিবেশ যেন নিশ্চিত হয়।
মাস্টার শফিকুল আলম বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান বিরাট সাহস হয়ে প্রভাব ফেলেছে। ইতিহাস সবসময় ক্ষমতাশীনরা নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং বরাবরই শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের লড়াইয়ের ইতিহাস আরো বেশি চাপা পড়েছে, এটিও সত্য। কিন্তু আমরা চাই, ইতিহাস একপাক্ষিক না হয়ে অর্থনীতির চালিকাশক্তি শ্রমজীবীর লড়াই ও আত্মত্যাগ তাতে যুক্ত হোক।
তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আন্দোলনে যারা সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে, যারা আমাদের ভাইদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করেছে, তারা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনতিবিলম্বে এসব খুনি ও দোসরদের গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে এবং পঙ্গুত্ববরণকারী শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।