মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জন আত্মসমর্পন সুস্থ হয়ে ৬ মাস পর ফিরেছে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার আমাদের জীবনের সাথে গাছের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী ড.শেখ ফরিদুল খুলনা বিভাগের ৭০ জন সাংবাদিকের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ বাগেরহাটে নানা আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে র‌্যালী ও আলোচনা সভা  বাগেরহাটে স্কুল ফিডিংয়ের ডিম খেয়ে প্রাথমিকের ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ্য বাগেরহাটে ঘাট সংস্কারে তিন দিন বন্ধ থাকবে মোরেলগঞ্জ ফেরি চলাচল বাগেরহাটে হাসপাতালে  চাকুরী বহাল রাখার দাবিতে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি,প্রশাসনিক ভবনে তালা বাগেরহাটের রাখালগাছি বাজারে সোনালী ব্যাংকের উপশাখা চালু বাগেরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা,স্বামী আটক

সুন্দরবনে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জন আত্মসমর্পন

রিপোর্টার- / ২ পড়া হয়েছে
সময়- মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক. সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জন সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পন করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় মোংলার দিগরাজস্থ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের প্রধান কার্যালয়ে বনদস্যুরা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।

দস্যুরা্ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলামের কাছে অস্ত্র তুলে দেন।

আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন, জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইউব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাজাহান শেখ (৪২), হেলাল (৩৮) খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা থানার বাসিন্দা। আকরাম শেখ (৪৫), নুরুল ইজারদার (৫০), হাসান শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৮), জিয়া শেখ (৩৮), কবির সুলতান (৫৫), কাইয়ুম জমাদ্দার (৪০) ও শরিফুল ইসলাম বয়াতি (২১) বাগেরহাট জেলার রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোড়লগঞ্জ, শরণখোলা এবং মোঃ জয়নাল আবেদীন (৩৮) পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার বাসিন্দা।

ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। এসব দস্যুরা, ৩ টি বিদেশি বন্দুক, ১ টি এইট শুটার, ১ টি ফোর শুটার, ৫ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫ টি দেশীয় পাইপগান, ২ টি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ কোস্ট গার্ডের নিকট জমা প্রদান করেন।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন, মোংলার জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা কর করছে। এই অপারেশনের অধীনে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। বন্ধুক যুদ্ধে এক বনদস্যু নিহত হয়। কোস্টগার্ডের একের পর এক অভিযান ও তৎপরতায় বনদস্যুরা কোনঠাসা হয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পনের সিদ্ধান্ত নেয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের চরপুটিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় দস্যুসদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষে আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অস্ত্র জমা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আত্মসমর্পনকৃত দস্যুদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। তারা যেহেতু আলোর পথে ফিরে এসেছে। তাদেরকে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে সবধরণের সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও সুন্দরবনের সকল সক্রিয় বনদস্যুকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হবে।  আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে চলতি বছরে স্টার নিউজের সমঝোতায় ছোট সুমন ও তার  সহযোগীসহ ৭ জন সদস্য আত্মসমর্পন করে। পরবর্তীতে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এই নিয়ে চলতি বছর ৩৭ জন বনদস্যু আত্মসমর্পন করল।

এর আগে ২০১৮ সালে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষনা করেছিল তৎকালীন সরকার। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ৩২ টি বাহিনীর ৩২৮ জন দস্যু বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পন করেছিলেন। এর পরে কিছুদিন সুন্দরবনে দস্যুদের উৎপাত না থাকলেও, পরবর্তীতে বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুন্দরবনে বনদস্যুরা মাথা চারা দিয়ে ওঠে।##


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ