নিজস্ব প্রতিবেদক. কনকনে শীতে যখন অসহায় মানুষের রাত কাটে কষ্টে, ঠিক তখনই বাগেরহাটে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিল একতা আন্তঃ কল্যাণ সেবা সংঘ। সংগঠনটির উদ্যোগে ৫ শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এতে মুখে হাসি ফুটেছে শীতার্ত মানুষের।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাটের খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাস।
একতা আন্তঃ কল্যাণ সেবা সংঘের সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম মিন্টুর সভাপতিত্বে সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সন্তোষ কুমার নাথ। এছাড়াও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আজম আলী মোল্লা, উপদেষ্টা বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. শাহ আলম ফরাজী, বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন হাওলাদার, প্রফেসর আনসার উদ্দিন, বাগেরহাট জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি মাহবুব মোর্শেদ লালনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
কম্বল পেয়ে খুশি ষাটোর্ধ্ব শীতার্ত ফারুক শেখ বলেন,এই শীতে খুব কষ্টে ছিলাম। রাতে ঘুমাতে পারতাম না। আজ কম্বল পেয়ে অনেক শান্তি লাগছে।একই এলাকার বিধবা নারী আমেনা বেগম বলেন,“আমার নিজের কিছু নেই। এই কম্বলটা আমার জন্য অনেক বড় উপকার হলো। আল্লাহ যেন যারা দিয়েছে তাদের ভালো রাখে।দিনমজুর আব্দুস সালাম বলেন,দিনে কাজ করি, রাতে শীতে কাঁপতে হয়। আজ কম্বল পেয়ে মনে হচ্ছে কেউ আমাদের কথা ভাবছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাস বলেন, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, এটি মানবিকতার পরিচয়। একতা আন্তঃ কল্যাণ সেবা সংঘ যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে সমাজ সেবায় কাজ করছে, তা অন্যদের জন্য অনুকরণীয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সন্তোষ কুমার নাথ বলেন, সরকারের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কম্বলগুলো শীতার্ত মানুষের রাতের কষ্ট অনেকটাই কমাবে। একতা আন্তঃ কল্যাণ সেবা সংঘের সাধারন সম্পাদক আজম আলী মোল্লা বলেন,আমাদের উদ্দেশ্য শুধু কম্বল বিতরণ নয়। আমরা দীর্ঘ ২২ বছর ধরে সাধারণ মানুষের পাশে আছি। ভবিষ্যতে একটি বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে অসহায় প্রবীণরা নিরাপদ আশ্রয় পায়।