শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ফাদার রিগনের কাছে ঋনী শরণখোলায় নবনির্মিত মসজিদের রড-সিমেন্ট চুরি, গভীর রাতে ভরাট বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে চতুর্থ দিনের মত কর্মবিরতি অব্যাহত মোল্লাহাটে বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যানের যোগদান জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে-শেখ মনজুরুল হক রাহাদ কালো টাকা ও পেশি শক্তির কারণে এলাকায় আতঙ্ক–জামায়াত নেতা অধ্যাপক মশিউর রহমান প্রবাসীর সহায়তায় শরণখোলার এতিমখানায় নতুন শ্রেণীকক্ষ, টিনের ছাউনিতে ফিরল স্বস্তি বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা, অফিসে তালা ও ভাংচুরের অভিযোগ  মানুষের নিরাপত্তা ও নারীদের কর্মসংস্থানে কাজ করবে বিএনপি- ফরিদুল ইসলাম বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে তৃতীয় দিনের মত কর্মবিরতি অব্যাহত

বাগেরহাটে রিসোর্ট ম্যানেজারকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

রিপোর্টার- / ২৪২ পড়া হয়েছে
সময়- সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট.  বাগেরহাটে জমি দখল নিয়ে বিরোধের জেরে চন্দ্রমহল ইকো রিসোর্টের ম্যানেজার কাবুল হোসেনকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তাকে আটক। দিনভর নানা তাল-বাহানা শেষে রাত ৮টার পরে বাগেরহাট মডেল থানায় কাবুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সোমবার কাবুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে সোপর্দ করা হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, রিসোর্টের নতুন মালিক প্রভাব খাটিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই মামলা সাজিয়েছেন।

কাবুল হোসেনের স্ত্রী তানিয়া বেগম জানান, চন্দ্রমহল ইকো রিসোর্টটি আগের মালিক সেলিম বিক্রি করে দেন নতুন মালিক নিরব হাসানের কাছে। তবে বিক্রয়কৃত জমির বাইরে অতিরিক্ত জায়গা দখল করতে চাইলে পূর্বের মালিকের পক্ষে কাবুল এর প্রতিবাদ করেন। এ কারণেই তাকে সরিয়ে দিতে মিথ্যা মাদক মামলা সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তানিয়া বেগম বলেন, “চন্দ্রমহল রিসোর্ট এর একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধারের অভিযোগে সকাল ১১টার দিকে কাবুলকে আটক করা হয়। সারাদিন তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে রেখে বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিধি অনুযায়ী তা সম্ভব না হওয়ায় পরে রাতে থানায় নিয়ে মামলা দেওয়া হয়।”কাবুলের ফুফাতো ভাই লিটু মোল্লা বলেন, এজাহারে যে ঘর থেকে মাদক উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে, সেখানে কাবুল থাকেন না। ঘরটি শ্রমিকদের মালপত্র রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন ওই ঘরের কাছেই বসে ছিলেন। পরে কাবুল পৌঁছালে তাকে আটক করে বলা হয় চার পিস ইয়াবা ও কিছু গাঁজা পাওয়া গেছে। বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েও চার পিস ইয়াবার কথা বলা হয়েছিল। অথচ রাতে থানায় দেওয়া এজাহারে ২০ পিস ইয়াবার কথা উল্লেখ করা হয়। সারাদিন পর মাদকের সংখ্যার এই অমিলই প্রমাণ করে কাবুলকে ফাঁসানো হয়েছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জানান, আমরা শুনেছি একটি ঘরে ৪ পিস ইয়াবা ও কিছু গাজা পেয়েছে। তবে রাতে শুনলাম, থানা নিয়ে ২০ পিস ইয়াবা ও ১২০ গ্রাম গাজা দিয়ে তাকে মামলা দেওয়া হয়েছে। ৪পিস ইয়াবা যদি কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে হয়ে যায় তাহলে মানুষ কোথায় যাবে।রোববার রাতে মামলার বাদী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক এস. এম. জাফরুল আলমের কাছে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে চাননি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা একজন আসামিকে ধরে থানায় এজাহার দায়ের করেছি। বিস্তারিত অফিসে গিয়ে জানানো হবে।আপনাদের যদি এর থেকে বেশি জানতে হয়, তাহলে সহকারি পরিচালকের কাছে যান।

এদিকে মুঠোফোনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বাগেরহাট এর সহকারী পরিচালক বুলু বিশ্বাসের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি উল্টো পরিদর্শকের সাথে কথা বলেন। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের তার অফিসে যাওয়ার অনুরোধ করেন।পরে তিনি বলেন,  পরিদর্শক জাফরুল্লাহর নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে ২০ পিস ইয়াবা ও গাজা উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করে মামলা দেওয়া হয়েছে। প্রথমে আটক ব্যাক্তিকে ভ্রাম্যমান আদালতে বিচারের জন্য নেওয়া হলে, আদালত সেটা অস্বীকৃতি দিলে থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মিথ্যা মামলায় ফাসানোর অভিযোগটি সত্য নয়।

“বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে দায়ের করা মামলাটি এজাহারভুক্ত করা হয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ