নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাট জেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে এবং নামমাত্র কাজ দেখিয়ে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে খোদ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে জেলা পরিষদ জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, যে প্রকল্পগুলো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, বাগেরহাট জেলা পরিষদের অধীনে (আরএফকিউ) দরপত্র বিজ্ঞপ্তি নং-০২/ ২০২৫-২৬) ১ নং থেকে ৬ নং প্যাকেজের মধ্যে, চিতলমারী ডাকবাংলোর স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক কাজ আধুনিকায়ন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে আসবাবপত্র সরবরাহ, ২ নং প্যাকেজে ফকিরহাট ডাকবাংলোর কক্ষ আধুনিকায়ন, কচুয়া ডাকবাংলোর কক্ষ আধুনিকায়ন, ৩ নং প্যাকেজ রামপাল ডাকবাংলোর কক্ষ আধুনিকায়ন ও জেলা পরিষদের কনফারেন্স কক্ষে সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহ, ৪ প্যাকেজ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন মেরামত, ৫ প্যাকেজ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষ আধুনিকায়ন এবং ৬ নং প্যাকেজ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষ রং করণ এবং অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ। এই প্রকল্পের দরপত্র অনুযায়ী কাজ শুরুর তারিখ ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ এবং সমাপ্তের তারিখ ১০ ফেরুয়ারি ২০২৬ । এক মাসের মধ্যে কাজ করার সিন্ধান্ত থাকলেও কার্যাদেশে ১০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়। তড়িগড়ি করে নির্বাচনের মাত্র ২দিন আগে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে বিল প্রধান ও চেক প্রস্তুত রেখেছে।
আরএফকিউ (আরএফকিউ (RFQ) বা Request for Quotation) একটি নোটিশে মোট ছয়টি প্রকল্প নেওয়া হয়, যার প্রাক্কলিত মূল্য ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পের কাজ না করেই চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া বাকি তিনটি প্রকল্পে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে চেক হস্তান্তরের অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকেীশলী মো. শহিদুল আলম, সার্ভেয়ার ইমরানসহ কতিপয় অসাধূ কর্মকর্তা পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে ৬টি প্যাকেজের ৩টির কাজ না করে চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেন। অন্য ৩টির চেক অনুমোদন দিয়ে চেক প্রস্তুত রেখেছে। এখবর জানতে গেলে গনমাধ্যমকর্মীদের প্রকেীশলী মো. শহিদুল আলম তথ্য দিতে অনিহা প্রকাশ করে।
সরকারী কাজের নীতিমালা অনুযায়ী কাজ শেষ না হওয়া পযর্ন্ত অফিস আংশিক বা সম্পুন্ন বিল বা চেক প্রদান করতে পারেন না। এবিষয়ে গনমাধ্যমকর্মীরা বিল উত্তোলনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেনি জেলা পরিষদের সহকারী প্রকেীশলী মো. শহিদুল আলম। সরেজমিনে রামপাল ডাকবাংলোর কক্ষ আধুনিকায়ন দেখতে গিয়ে দেখা যায় নামমাত্র তিনটি রুম ও একটি সিড়ির কিছু অংশ সংস্কার ও রংয়ের কাজ করা হয়েছে।
এছাড়া খোদ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষ আধুনিকায়নে দুটি প্রকল্পে ১৬ লাখ টাকার কাজ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কাজ করা হয়েছে বলে জানান। তাৎক্ষনিক পাশের রুমে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে কক্ষে গিয়ে দেখা যায় তার রুমে কোন কাজ করা হয়নি। এসময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আবু রিয়াদ কাজ না করার বিষয়ে স্বীকার জানান সহকারী প্রকেীশলী সঠিক বলেনি।
রামপাল প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএ সবুর রানা বলেন, রামপাল ডাকবাংলোর কক্ষ আধুনিকায়ন যা বুঝায় তা কোন প্রকার করা হয়নি। নামমাত্র সিড়ির কিছু অংশ সংস্কার ও রংয়ের কাজ হয়েছে। যারা জনগনের অর্থ হাতিয়ে নেয় তাদের বিরুদ্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী তোলেন তিনি।
নাম প্রকাশে আনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার বলেন, আমরা বছরের পর বছর নিয়মিত লাইসেন্স রেনুয়াল দিয়ে আসছি। কিন্তু পরিষদের অসাধু কর্মকর্তারা তাদের নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারদের লাইসেন্স নিয়ে তারা বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ তুলে নেয়। জেলা পরিষদের সহকারী প্রকেীশলী মো. শহিদুল আলম য়োগদানের পর থেকে আরএফকিউ কাজের সংখ্যা বেড়েছে। তিনি আসার পর ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আরএফকিউ কাজ নিজেদের পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে করেছেন। এছাড়া একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরাদ্বের অর্থ ভাগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের নামে। এত অনিয়ম থাকলেও জেলা পরিষদের বছরের পর বছর কিভাবে অডিট নিস্পত্তি করে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বাগেরহাট জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন বলেন, যে প্রকল্পগুলো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্তের জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আবু রিয়াদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি অভ্যান্তরীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় যারা অনিয়মের সাথে জড়িত থাকবে তাদের বিষয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।