নিজস্ব প্রতিবেদক. বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের বিছানায় অসহায় কাতরাচ্ছে যুবক রাকিব। মাথায়, মুখে, হাতে-পায়ে আঘাতের দাগ। পাশে বসা মায়ের মুখ থেকে কান্নার শব্দ আসছে বারবার। কথায় কথায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। বারবার শুধু বলছেন, “গাড়িটা না পেলে সংসার কিভাবে চলবে? মহাজনকে গাড়ির টাকা কিভাবে শোধ করবো? আমার ছেলেটাকে মেরেছে, অচেতন করে ফেলে রেখে গেছে। এখনো সুস্থ হয়নি। আমি প্রশাসনের কাছে হাত জোড় করে বলি, ইজিবাইকটা যেনো উদ্ধার করে দেয়।”গত রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাট সদর উপজেলার রাকিব প্রতিদিনের মতো ভাড়ায় চালিত ইজিবাইক নিয়ে বের হয়েছিলেন। কিন্তু দুপুরে বাসায় না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে খবর আসে, ফকিরহাটে তাকে অচেতন অবস্থায় ফেলে গেছে ছিনতাইকারীরা।
রাকিবের মা মাজেদা বেগম জানান, “আমার ছেলে ওইদিন ইজিবাইক নিয়ে বের হয়েছিল। দুপুরে ফেরার কথা ছিল। বিকেলে না ফেরায় খোঁজ নিতে গিয়ে শুনি ফকিরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। হাসপাতালে এনে দেখি শরীরের সর্বত্র আঘাতের দাগ। গাড়িটাও নেই। মহাজনের কাছ থেকে গাড়িটা ভাড়ায় নিয়ে চালাতো আমার ছেলে। সংসার চালানোর একমাত্র ভরসা ওই গাড়ি। এখন কিভাবে সংসার চলবে আর কিভাবে আমি গাড়ির ক্ষতিপূরণ দেবো!
” তিন দিন পর জ্ঞান ফিরলে ভুক্তভোগী রাকিব বলেন, “রবিবার সকালে বাগেরহাট আদালতের সামনে থেকে এক লোক ইজিবাইক ভাড়া নেয়ার জন্য আমার নিকট আসে। নিজেকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে ফকিরহাটের নওয়াপাড়া যাওয়ার কথা বলে। সেখানে পৌঁছালে একটি সাদা গাড়ি আসে। তখন বলে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে যেতে হবে। তখন তার কোমরে একটি অস্ত্রও দেখেছি আমি। আমার ইজিবাইক রেখে আমাকে তাদের সহযোগীতা করতে হবে বলে গাড়িতে তুলে নেয়। গাড়িতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক স্টিকার লাগানো ছিলো। এসব দেখে আমি বিশ্বাস করেছিলাম। গাড়িতে ওঠার পর ভেতরে থাকা একটি বোতল থেকে পানি খেতে দেয়, এরপর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরলে রাস্তার পাশে নিজেকে পড়ে থাকতে দেখি।”
রাকিবুলের বোন আসমা বেগম বলেন, ‘সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে লোকজন আমাদেরকে খবর দেয়। ভাইকে উদ্ধার করে আনার দুই দিন পর জ্ঞান ফিরেছে। এখনো আমার ভাই পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। ইজিবাইকটা উদ্ধারের জন্য ফকিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা আছে। যদি ক্যামেরাগুলো চেক করা হয় তাহলে দোষীদের চিহ্নিত করা যাবে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আমাদেরকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করে দিন।
বাগেরহাটের ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, ইজিবাইক ছিনতাই এর ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। আমরা ইজিবাইকটি উদ্ধারে কাজ করছি।